বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির এই অগ্রগতির সময়ে মোবাইল ফোন রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশেষ করে স্মার্টফোনের আগমনের পর থেকে মোবাইল ফোনের ব্যবহারের ধারণাই বদলে গেছে। বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের সুবিধা মোবাইলকে কথা বলা বা টেক্সট ম্যাসেজ পাঠানোর বাইরেও নানা ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত করেছে। ইন্টারনেট সংযোগ থাকার ফলে স্মার্টফোন এখন পরিণত হয়ে গেছে সব ধরনের কাজের হাতিয়ারে।
ভ্রমণে স্মার্টফোন
নানা ধরনের কাজের মতো ভ্রমণে এবং বিশেষ করে আকাশপথের ভ্রমণে স্মার্টফোনের ব্যবহার নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই। একজন ভ্রমণকারীর জন্য মোবাইল ফোন পরিণত হয়েছে আবশ্যক একটি অ্যাকসেসরিজে। যেকোনো সময়ে তাত্ক্ষণিক তথ্য পেতে এবং নিজেকে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই একজন ভ্রমণকারীর কাছে। এয়ারলাইন্সগুলোও তার গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পৌঁছে দিতে ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন। সময়ের সাথে সাথে এই ব্যবহার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। আর সামনের বছরগুলোতেও এই ব্যবহার আরও বাড়বে বলেই জানাচ্ছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
বর্তমানের প্রযুক্তি
এয়ারলাইন্সের নানা ধরনের কাজে দক্ষতা ও গতি বাড়ানোর জন্য রয়েছে মোবাইল ফোনের নানা ধরনের ব্যবহার। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের সেবায় কোনো সমস্যা আসলে গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মূল মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে মোবাইল ফোন। মোবাইল চেক-ইন, টুডি বারকোড বোর্ডিং পাশ প্রভৃতি কাজে এখন অনেক এয়ারলাইন্সই ব্যবহার করে থাকে মোবাইল প্রযুক্তির সুবিধা। কিছু কিছু এয়ারলাইন্সে রয়েছে আগে থেকেই মোবাইলে বুকিংয়ের সুবিধা। এয়ারলাইন্সের সাথে জড়িতরা জানিয়েছেন, আগামী দিনগুলোতে প্রায় সব এয়ারলাইন্স মোবাইলে বুকিংয়ের সুবিধা আত্মীকরণ করে নেবে। শুধু তাই নয়, স্মার্টফোনের বদৌলতে হয়ত এয়ারলাইন্সগুলো তাদের বুকিং সিস্টেমের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করবে স্মার্টফোনের অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে। তবে এখনই মোবাইলে টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে যাত্রার সব ধরনের তথ্য শেয়ার করে থাকে এয়ারলাইন্সগুলো।
যা আসছে সামনের দিনে
আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের সেবা খাতে মোবাইলনির্ভর বেশকিছু সুবিধা যুক্ত করে নেবে। এর মধ্যে বিশেষ করে অ্যানসিলারি সার্ভিসের কথা রয়েছে আলোচনায়। গ্রাহকদের কাছে নিজেদের নানা ধরনের প্রোমোশনাল অফার নিয়ে আসার কাজটি এয়ারলাইন্সগুলো আগে থেকেই করে আসছে। এখন এই প্রচারের কাজটি আরও গতিশীল হবে মোবাইলের ব্যবহারের ফলে। গ্রাহকদের লক্ষ করে বিভিন্ন ধরনের প্যাকজে সরাসরি গ্রাহকদের মোবাইলে পৌঁছে দেওয়াকে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও প্রসারিত দৃষ্টি
এতক্ষণ ধরে যেসব ফিচারের কথা বলা হয়েছে, এর সবই মৌলিক ডিজাইনের মোবাইল ব্যবহার করেই করা সম্ভব। আরও একটু সামনে তাকালে এর বাইরেও আরও কিছু সুবিধা যুক্ত করার কথা আসতে পারে। উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্টফোন হয়ে উঠতে পারে এর প্রধান মাধ্যম। এর মধ্যে রয়েছে লোকেশননির্ভর সেবা, যার মাধ্যমে ভ্রমণকারীর কাছে তার গন্তব্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় স্থানের তথ্য পৌঁছে দেওয়া যাবে।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ইতোমধ্যেই অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান গড়ে নিয়েছে। ভ্রমণকারীকেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো দিয়ে প্রভাবিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া এখন মোবাইল ওয়ালেটের ধারণাও ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠছে। ফলে এয়ারলাইন্স সংক্রান্ত সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যমে পরিণত হবে মোবাইল ফোন। এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুততর হয়ে উঠছে। এনএফসি প্রযুক্তির ফলে কেবল এই আর্থিক লেনদেনই নয়, এর সাথে বিমানবন্দরের বিভিন্ন ধরনের চেক-ইন ইনফরমেশনগুলোও সম্পন্ন করা যাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই।
স্মার্টফোনের ব্যবহারের ফলে ভবিষ্যতে প্রিন্ট করা টিকেটের ধারণাও বদলে যেতে পারে বলে মন্তব্য প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমেই ডিজিটাল টিকেট থাকবে গ্রাহকের স্মার্টফোনে। আর সেটিও সরাসরি চেক করে নেবে বিমানবন্দরে স্থাপিত কোনো বুথ।
তৈরি হবে অ্যাপ্লিকেশন
মোবাইল ফোন এবং স্মার্টফোনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের এয়ার ট্রাভেল নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন হবে নানা ধরনের অ্যাপ্লিকেশন। মোবাইলের ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করা গেলেও এর জন্য আলাদা করে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার প্রয়োজন হবে বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের। আর নিজেদের গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে যথাযথভাবে এই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভ্রমণে মোবাইলের ব্যবহারের প্রভাব
ভ্রমণের বিভিন্ন ধাপেই রয়েছে মোবাইলের ব্যবহার। ভ্রমণের পূর্বেই টিকেট বুকিংয়ের কাজে রয়েছে মোবাইলের ব্যবহার। এখন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী এই কাজে ৯০ শতাংশ মানুষই ব্যবহার করে পিসি বা ল্যাপটপ। তবে সামনের দিনে এই স্থানটি মোবাইল দখল করে নেবে বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। অ্যামাডিউসের এক জরিপে দেখা যায়, ফ্লাইটের স্ট্যাটাসকে রিয়েল টাইমে আপডেট করার ফিচার আশা করেছেন ৪০ শতাংশ মানুষ। ব্যাগেজ পৌঁছে যাওয়ার সময়ের আপডেট তথ্য আশা করেন ৩৬ শতাংশ মানুষ। বোর্ডিংয়ে মোবাইল ব্যবহার করা, মোবাইল ব্যবহার করে পথনির্দেশনা পাওয়া, নিজেই লাগেজের ট্যাগিং প্রভৃতি সেবাকে মোবাইল ফোনে চান সিংহভাগ ভ্রমণকারী। অ্যামাডিউসের এই প্রতিবেদনে দেখা যায়, আকাশপথে ভ্রমণে সবচেয়ে বেশি মোবাইল ফোনের ব্যবহার রয়েছে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে। এই প্রবণতা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বজুড়ে। তাই ভবিষ্যতে আকাশপথেও রাজত্ব করবে মোবাইল, এটা বলাই যায়।
