কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
চা বাগানে টিলার গাছ চুরি, শ্মশান ভূমিতে চারা রোপণ, কর্মরত নারী শ্রমিকদের হয়রানির প্রতিবাদে কমলগঞ্জের দলই চা বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণের দাবি জানিয়ে দু’দিন ধরে চলা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে চা শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকরা বাগান অফিসের সম্মুখে জড়ো হয়ে কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভের মধ্যদিয়ে গতকাল শুক্রবার ২য় দিনেও এ কর্মসূচি পালিত হয়। তবে দুপুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতা হয়।
শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, চা শ্রমিকরা বাগানের বাইরে একটি শ্মশান হিসেবে কিছু ভূমি ব্যবহার করছে যুগ যুগ ধরে। সম্প্রতি বাগান ব্যবস্থাপক এ শ্মশান ভূমিতে চায়ের চারা রোপণ শুরু করেছেন। তাছাড়া বাংলোয় কর্মরত নারী শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন ব্যবস্থাপক। চা শ্রমিকরা পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করলেও সম্প্রতি সেই জ্বালানি কাঠের উত্সস্থলও ব্যবস্থাপক কেটে সাফ করে নিয়েছেন।
শ্রমিকদের দু’দিনের কর্মসূচির ফলে ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার বেলা ১২টার সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভবিষ্যতে ধলই চা বাগানের ও সাধারণ চা শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমকিদের সাথে ব্যবস্থাপক সু-সম্পর্ক, চা শ্রমিকদের চিকিত্সা সেবার মান উন্নয়ন, সাধারণ চা শ্রমিকদের কোনভাবে অপদস্ত না করারও আশ্বাস প্রদান করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলই চা বাগান ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম, সহকারী ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু ধলই ভ্যালির (অঞ্চলের) সহ-সভাপতি গায়ত্রী রাজভর, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, দলই চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গৌরাঙ্গ নায়েক, সম্পাদক সেতু রায়সহ নেতৃবৃন্দরা।
