ঠাকুরগাঁওয়ে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। অধিক লাভজনক হওয়ায় এলাকার কৃষকরা দিন দিন ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, ২-এর অধিক মৌসুমে একই জমিতে ভুট্টা আবাদ করা হলে জমির উর্বরা শক্তি কমে যায়। ফলে আবাদকৃত ভুট্টার জমিতে পরবর্তীতে অন্য কোন ফসলের ভাল ফলন পাওয়া যায় না। কিন্তু এলাকার কৃষক এ তথ্য মানছেন না। ভুট্টার ফলন এবং লাভজনক দাম পাওয়ায় তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের মতে, এ বছর ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ২০ হাজার ৭শ’ ৮০ হেক্টর ও উত্পাদিত ভুট্টার পরিমাণ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয় ২০ হাজার ৮শ’ ৯০ হেক্টর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এর উত্পাদন হত ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ১শ’ বিশ টন।
কৃষক হোসেন আলী জানান, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদে ব্যয় হয় ৪/৫ হাজার টাকা। অথচ মণ প্রতি ৫শ’ টাকা হিসেবে এক বিঘা জমিতে ভুট্টা বিক্রি করে আয় হবে ১৫ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় একজন কৃষকের কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা লাভ থাকছে।
অভিযোগে প্রকাশ, এ বছর সরকারিভাবে কৃষকদের কাছ থেকে গম সংগ্রহ করার কথা থাকলেও কোন কৃষক এক কেজি গমও বিক্রি করতে পারেনি। ভুট্টা বিক্রি করে সে লোকসান পুষিয়ে নেবেন বলে জানালেন মন্ডলাদাম গ্রামের কৃষক কামিনী রায়। তবে এখানে কাজী ফার্মস নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেলার বিভিন্ন হাটবাজারসহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ক্রয় করছে লক্ষাধিক মেট্রিক টন ভুট্টা। তারা এই ভুট্টা থেকে তাদের নিজেদের ফিড মিল কারখানায় মুরগির বাচ্চার খাবার তৈরি করে থাকে।
