স্পোর্টস ডেস্ক
শেষ দশ বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর ইউরোপা লিগ থেকে ইংলিশ দলগুলোর অকাল বিদায় ছিল নিয়মিত দৃশ্য। এবার সেসব কিছুকে পেছনে ফেলে দারুণ কীর্তি গড়লো প্রিমিয়ার লিগের দলগুলো।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুল-টটেনহ্যাম আর ইউরোপার ফাইনাল খেলবে চেলসি ও আর্সেনাল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় ফুটবলের দুই আসরের ফাইনালে খেলছে একই দেশের চারটি দল।
২০০৭-০৮ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে চেলসি ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড মুখোমুখি হবার পরের এক দশক ছিল কেবলই স্প্যানিশ আধিপত্যের। এ সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে ৪ বার আর বার্সেলোনা জিতেছে ৩ বার। বাকি তিন বারের একবার মাত্র শিরোপা গেছে ইংল্যান্ডের ঘরে। ২০১২ সালে সেবার বায়ার্ন মিউনিখকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল চেলসি।
ইউরোপায়ও এসময়ে চলেছে স্প্যানিশ আধিপত্য। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও সেভিয়া তিন বার করে শিরোপা জিতেছে এই সময়ে। মাঝে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর চেলসি দ্বৈত স্প্যানিশ আধিপত্যে বাগড়া দিয়েছিল দুইবার।
দুটো প্রতিযোগিতায় অল স্প্যানিশ ফাইনাল হয়েছে তিনবার। তবে তার একবারও দুই প্রতিযোগিতার ফাইনালে স্পেনের সব দল হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এবার লিভারপুল-টটেনহ্যাম ও চেলসি-আর্সেনালের কল্যাণে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার ফাইনালে একই দেশের সব দল হবার ঘটনা ঘটলো।
দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আয়াক্সকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অল ইংলিশ ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল টটেনহ্যাম। এরপর দলটির কোচ মরিসিও পচেত্তিনো বলেন, ‘আমি য়ুর্গেন ক্লপকে অভিনন্দন জানাতে চাই। কারণ লিভারপুল বার্সেলোনার বিপক্ষে অসাধারণ খেলেছিল। তারাও বীর এবং আমরা দুটো ইংলিশ ক্লাবের মধ্যে অবিশ্বাস্য এক ফাইনাল উপভোগ করতে যাচ্ছি।’
শেষ কয়েক বছরে ইংলিশদের কোনো প্রতাপই ছিল না ইউরোপে। ২০১৩ আর ২০১৫ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারেনি প্রিমিয়ার লিগের কোনো দলই। সেখান থেকে এবার দুই প্রতিযোগিতার ফাইনালেই খেলছে ইংলিশ দলগুলো। এর ফলে প্রিমিয়ার লিগকেই ইউরোপের সেরা লিগ হিসেবে আখ্যা দিলেন চেলসি কোচ মাওরিজিও সারি।
তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডে ফুটবলের মানটা অনেক উঁচু এবং প্রিমিয়ার লিগই ইউরোপের সেরা লিগ।’
