রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ঢাকা সিটি করপোরেশন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঘোষণা দিয়েছিল মহান স্বাধীনতার মাসে এ ফ্লাইওভারটি জাতিকে উপহার দেবে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ২৬ মার্চকে উদ্বোধনের দিন ঠিকও করেছিল। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় পরে উদ্বোধনের তারিখ বাদ দেওয়া হয়েছে। হরতাল, অবরোধ ও বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে বর্তমান সরকারের মেয়াদে এ ফ্লাইওভারের কাজ সম্পূর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
যাত্রাবাড়ি থেকে গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার হয়ে পলাশি পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এ ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। পিপিপিভিত্তিক চুক্তিতে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমান সরকারের আমলে বিভক্তির পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে ফ্লাইওভার প্রকল্পের কার্যক্রম। প্রথমে ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ ঠিক করা হয়েছিল ৭ কিলোমিটার। পরে আরো ৩ কিলোমিটার বাড়িয়ে এর দৈর্ঘ ১০ কিলোমিটার করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশাপাশি ঢাকা-মাওয়া সড়ককেও ফ্লাইওভারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। গোলাপশাহ মাজারের পরিবর্তে পলাশি পর্যন্ত এর দৈর্ঘ বিস্তৃত করা হয়। ৬০০ কোটি থেকে বর্তমানে এ প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কাজ সঠিক সময়ে শেষ না হলে প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে যাবে।
পত্রিকায় প্রকাশিত খবর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মাসে ১০-১২ দিন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। প্রথম দিকে হরতালের দিনেও কাজ চলতো। কিন্তু হরতালের দিন পিকেটাররা প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা করায় এখন হরতালের আগের দিন ও হরতালের দিন ফ্লাইওভারের কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে এক হরতালের দিনে পিকেটারদের হামলার শিকার হন যাত্রাবাড়ি-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের প্রকৌশলীরা। রাজধানীর ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজে নিয়োজিত বেশিরভাগ প্রকৌশলী বিদেশি। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাঁরা ফ্লাইওভার প্রকল্পে কাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
এই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেসরকারি বিনিয়োগকে উত্সাহিত করার অন্যতম পদক্ষেপ হিসেবে ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী এই ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ ২০১৩ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার ৮০ ভাগ কাজ এখনো শেষ হয়নি।
নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার প্রকল্প এলাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। জরাজীর্ণ রাস্তার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজটের। কর্দমাক্ত রাস্তায় চলতে গিয়ে নাকাল হচ্ছে পথচারীরা। রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় এ এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুকনো অবস্থায় নির্মাণসামগ্রীর স্তূপে জমা ধুলো নাক-মুখ ভরিয়ে দিচ্ছে পথচারীদের। এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে যাত্রাবাড়ি পৌঁছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যানজটের কারণে।
মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে যাত্রাবাড়ি থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত রাস্তা পায়ে হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পুরো রাস্তায় ছড়িয়ে যায় কাদাপানি। যাত্রাবাড়ি চৌরাস্তা ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় মানুষের ভোগান্তির সীমা থাকে না। দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কার্যক্রম শেষ করে ফ্লাইওভারটি চলাচলের উপযোগী করা হবে— এমনটিই প্রত্যাশা এই এলাকার জনগণের।
ঢাকা
