রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে মনিটরিং টিমের নজরদারি কোনো কাজে আসছে না। আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন নিত্যপণ্য। এছাড়া সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দরে বিক্রি হচ্ছে না গরুর মাংস। কোনো কোনো বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত আসার খবরে ভয়ে দু’একজনের কাছে বিক্রি করা হলেও পরে নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে পণ্যসামগ্রী।
গতকাল শুক্রবার নিউমার্কেট, শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজারে সরেজমিনে খোঁজ নিলে ভোক্তারা এ সব অভিযোগ করেন। তারা জানান, এবার রমজানের শুরু থেকেই নিত্যপণ্যের দাম বেশি। বিশেষ করে গরুর মাংস, দেশি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বেড়েছে। আর সবজির দাম গত এক মাস ধরেই চড়া। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষ বিপাকে।
উল্লেখ্য, রমজানে ভোক্তাদের সুবিধার্থে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গরু, মহিষ, ভেড়া ও খাসির মাংসের দর নির্ধারণ করে দিয়েছে। প্রতি কেজি দেশি গরুর মাংস সর্বোচ্চ ৫২৫ টাকা, বোল্ডার গরুর মাংস ৫০০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকা ও ভেড়ার মাংসের দাম ৬৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত এই দামে সুপারশপেও মাংস বিক্রি করতে হবে। কিন্তু রাজধানীর কোথাও গরু ও খাসির মাংস এই দরে বিক্রি হচ্ছে না। দু’এক জায়গায় বোল্ডার গরুর মাংস দেশি গরু বলে প্রতি কেজি ৫২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি গরু ৫৫০ থেকে ৫৭৫ টাকা ও ভালো মানের খাসির মাংস ৮০০ টাকার কমে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশও (টিসিবি) গতকাল খুচরা বাজারে গরুর মাংস ৫৩০ থেকে ৫৫০ টাকা ও খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে তাদের দৈনন্দিন বাজারদরের প্রতিবেদনে তুলে ধরে।
বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেন, গাবতলী হাটের ইজারাদারদের বেশি টাকা খাজনা নেওয়ার জন্য গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত হারে খাজনা নিলে গরুর মাংসের দাম এমনিতেই কমে যাবে।
দাম বেড়েছে মুরগিরও। এক মাস আগেও প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৪৫০ টাকায়। গতকাল তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। এছাড়া ফার্মের কক জাতের মুরগি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২৮০ টাকা, লাল লেয়ার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা ও ব্রয়লার ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজান উপলক্ষে সবজির দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। এছাড়া লম্বা জাতের বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পেপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করল্লা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, পটল ৫০ থেকে ৬০, বরবটি ৫০ থেকে ৬০, কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রমজান শুরু হওয়ার পর নতুন করে দাম বেড়েছে দেশি পিঁয়াজ, রসুন ও আদার। গতকাল বাজারে দেশি পিঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে রসুন ৮০ থেকে ১৩০ টাকা ও আদা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়।
গতকাল শান্তিনগরবাজারে বাজার করতে আসা জেসমিন আক্তার বলেন, সরকার রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না বললেও ঠিকই বাড়ছে। এই বাজারেতো ৫৫০ টাকার নীচে দেশি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে না। তাহলে দাম নির্ধারণ করে কি লাভ হলো?
অথচ গত ৬ মে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের জানান, পবিত্র রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা এবার কঠোর হব। কোনোভাবেই দ্রব্যমূল্য বাড়তে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে ৮টি টিম কাজ করবে। এরমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৪টি ও টিসিবির অধীনে চারটি টিম বাজারে নজরদারি করবে। কিন্তু এত নজরদারির পরও কিভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে? অভিযোগ ভোক্তাদের।
