খাদ্যে ভেজালকারীদের চাই সর্বোচ্চ শাস্তি

আপডেট : ১০ মে ২০১৯, ২১:৪৩

মোবাইল কোর্টের নজরদারিই কেবল খাদ্যে বিষ ও ভেজাল বন্ধের সমাধান নয়। বিষাক্ত খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে। যা নীরব গণহত্যার সামিল। মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর প্রয়োগ, দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি ও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বন্ধের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার সকালে চকবাজার জামে মসজিদের সামনে ‘মোবাইল কোর্টই যথেষ্ট নয়; ইফতারিসহ খাদ্য ভেজাল ও বিষাক্তকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে’ শীর্ষক মানববন্ধনে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম (নাসফ) ও পল্লীমা গ্রীণসহ ১৫টি সমমনা সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিষ ও ভেজালমুক্ত এবং পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রকে আমরা এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে দেখছি না। আমরা বঞ্চিত হচ্ছি বিষ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পাওয়ার অধিকার থেকে। এমন কোনো খাদ্যদ্রব্য নেই যাতে মারাত্মক ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশানো হয় না। উত্পাদন থেকে বাজারজাতকরণ প্রত্যেকটি স্তরেই এর ছড়াছড়ি রয়েছে।

পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, সহজপ্রাপ্যতা, আইন প্রয়োগ ও যথাযথ নজরদারির অভাবে এসব ঘটেই চলেছে, যাতে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে। শিশু খাদ্য থেকে শুরু করে ফল-মূল, শাক-সবজি, মাছ- মাংস, দুধ, মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়সহ প্রায় সব ধরনের খাবারে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ মেশানো হয়। ফল ও তরিতরকারি দ্রুত বৃদ্ধির জন্য কৃত্রিম হরমোন গ্রোথ, কীট পতঙ্গ প্রতিরোধে নিষিদ্ধ বিষাক্ত কীটনাশক এবং তাজা ও সতেজ রাখতে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, ফল কৃত্রিম উপায়ে পাকাতে ব্যাপকভাবে ক্যালসিয়াম কার্বাইড, কপার সালফেট, কার্বনের ধোঁয়া, পটাশের লিকুইড সলিউশন প্রয়োগ করা হয়। মাছে ফরমালিন, মুড়িতে ইউরিয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির উত্পাদিত বোতল ও মোড়কজাত খাদ্য যেমন শরবত, ফলের রস, জ্যাম-জেলিতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়। মিষ্টিতে কৃত্রিম মিষ্টিদায়ক, আলকাতরা এবং কাপড়ের রং প্রয়োগ করা হয়। চিকিত্সক ও পুষ্টিবিদদের মতে এসবের প্রভাবে গলায় ক্যান্সার, রক্ত ক্যান্সার, বাল্য হাঁপানি এবং চর্ম রোগ হয়। ফরমালিনযুক্ত খাবারে পাকস্থলীতে প্রদাহ, লিভারের ক্ষতি, অস্থিমজ্জা জমে যায়।

নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের (নাসফ) সভাপতি ও পবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান ময়নার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, পল্লীমা গ্রীণের চেয়ারম্যান মো. লুত্ফর রহমান, বানিপার সাধারণ সম্পাদক এম এ ওয়াহেদ, পল্লীমা সংসদের সাধারণ সম্পাদক আউয়াল কামরুজ্জামান ফরিদ, পরিবেশ আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি মো. আমির হাসান মাসুদ, পুরান ঢাকা নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সুবন্ধন সমাজ কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, বিসিএইচআরডির নির্বাহী পরিচালক মাহবুল হক প্রমুখ।