ইফতারে দরকার শক্তিবর্ধক খেজুর

আপডেট : ১০ মে ২০১৯, ২১:৪৫

ডা. মোড়ল নজরুল ইসলাম

প্রতি রমজানেই আমি খেজুর নিয়ে লিখে থাকি। পবিত্র মাহে রমজানে এই খেজুর বা খোরমা ইফতারে এক পবিত্র নিয়ামক। খেজুরের পুষ্টিগুণ ও ভেষজগুণ এতটাই বেশি যে শুধু একটা খেজুর খেয়ে সাহাবীগণ রোজা পালন করতেন এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। আমাদের প্রিয় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কাছে খেজুর ছিল অত্যন্ত প্রিয়। এই খেজুরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজলবণ ও প্রচুর আঁশ বা ফাইবার রয়েছে যা শরীরের পুষ্টি জোগায়। থাকা যায় দীর্ঘক্ষণ সজীব ও সতেজ। আর প্রাচীনকাল থেকে এই খেজুর ইফতারির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। খেজুরের ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল হ্রাসে সহায়ক। খেজুরে রয়েছে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, আয়রণ, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানেজ, কপার ও ভিটামিন বি ও পাইরিডক্সিন, নিয়াসিন, প্যান্টোথিক এসিড ও রাইবোপ­াবিন। তাই খেজুরের পুষ্টি শুধু শরীরের শক্তি রক্ষায় সহায়ক তাই নয়, এর খনিজ লবণ পানিশূন্যতা রোধেও সহায়ক। তাই প্রতিদিনের ইফতারিতে অবশ্যই অন্তত দু’টি খেজুর রাখুন। খেজুরের পুষ্টি ও ভেষজগুণের কারণে রোজাদারগণ সুস্থভাবে রোজা পালন করতে পারবেন।

এছাড়া রোজাদারগণ সারাদিন অভুক্ত থাকার কারণে রক্তের শর্করা বা সুগার কমে যায়। যাকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। ইফতারের সময় প্রথমে খানিকটা পানি বা শরবত পানের পর যদি ১টি বা ২টি খেজুর খেয়ে নেন তা হলে দ্রুত কমে যাওয়া সুগার স্বাভাবিক হতে থাকে এবং হাইপোগ্লাইসেমিক অবস্থা আর থাকে না। পাশাপাশি যাদের ডায়াবেটিস আছে অথবা ব্লাড সুগার বর্ডারলাইন তাদেরও হাইপোগ্লাইসেমিক হবার প্রবণতা অধিক। এসব রোজাদারগণের জন্য ইফতারিতে অন্তত ২টি খেজুর খাওয়া ভালো। তবে খেয়াল রাখবেন খেজুর ভালো করে ধুয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, আজকাল বাজারে অনেক নিম্নমানের খেজুর খোলা রেখে বিক্রয় করা হয়। দেখে নিবেন খেজুর কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ না হলে খেজুর কিনবেন না।

লেখক: চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ