বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁস করা সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক ব্র্যাডলি ম্যানিং (বর্তমানে চেলসি ম্যানিং) ছাড়া পেয়েছেন। উইকিলিকস সংক্রান্ত এক তদন্তে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত মার্চে তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভার্জিনিয়ার এক বিচারক। ৬২ দিন পর বৃহস্পতিবার তিনি ছাড়া পান।
আলেকজান্দ্রিয়া ডিটেনশন সেন্টার থেকে ওইদিন তাকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তারা আরো জানিয়েছেন, ম্যানিংয়ের বিরুদ্ধে আরো একটি সমন জারি হয়েছে। সে কারণে তাকে ফের জেলে যেতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসসহ ২০টি অভিযোগে ২০১৩ সালে ৩৫ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল ম্যানিংয়ের; বারাক ওবামা সাজা কমালে ২০১৭ সালে ছাড়া পান তিনি। ম্যানিংয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তুমুল বিতর্ক চলে। মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ম্যানিংয়ের ফাঁস করা তথ্যে তাদের অনেক কর্মকর্তার জীবন বিপন্ন হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক এ গোয়েন্দা বিশ্লেষকের ভাষ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে বিতর্ক উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি তথ্যগুলো প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। সামরিক আদালতের দণ্ড পাওয়ার একদিনের মাথায় ম্যানিং নিজেকে নারী দাবি করে বাকি জীবন চেলসি ম্যানিং নামে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
কারাগারে হরমোন চিকিত্সা পাওয়ার দাবিও তুলেছিলেন ম্যানিং। পুরুষদের জন্য নির্ধারিত একটি সামরিক কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে খবর আসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে। উইকিলিকস সংক্রান্ত তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে ম্যানিং বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে যা যা জানেন সামরিক আদালতেই তার সব শেয়ার করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ৭ লাখেরও বেশি কূটনৈতিক গোপন তারবার্তা, ভিডিও ও নথি উইকিলিকসের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। ২০১০ সালে তাকে ইরাক থেকে গ্রেফতার করা হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ম্যানিংয়ের ৩৫ বছরের সাজাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যানিংকে ‘অকৃতজ্ঞ বিশেষজ্ঞ’ অ্যাখ্যা দেন, যার ‘কখনোই কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া উচিত ছিল না’। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় ম্যানিং সরকারি স্বচ্ছতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার নিয়ে সরব।
