আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তর কোরিয়ার একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাহাজটি কয়লা পরিবহনে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ। কয়লা উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য হলেও এর ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আছে।
‘ওয়াইজ অনেস্ট’ নামে উত্তর কোরীয় জাহাজটি ২০১৮ সালের এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ায় প্রথম আটক হয়। ওই বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র সেটি জব্দের আবেদন করে। এরপর ইন্দোনেশিয়া জাহাজটিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেয়। এখন সেটি যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র এবারই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো জাহাজ জব্দ করল। মার্কিন ব্যাংক হিসাবে ডলারের মাধ্যমেই জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দেয়া হতো, যা যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
মার্কিন কৌঁসুলি জিওফ্রে এস বারমেন বলেন, ‘ওয়াইজ অনেস্ট জাহাজটির নিবন্ধনের তথ্য গোপন করে উত্তর কোরিয়া তাদের উন্নত মানের কয়লা বিদেশিদের কাছে বিক্রি করেছে বলে আমাদের অফিস জানতে পেরেছে।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, জাহাজটির মাধ্যমে ভারি যন্ত্রপাতি আমদানি করে উত্তর কোরিয়া তাদের সক্ষমতা আরো বাড়িয়েছে এবং এটি পিয়ংইয়ংকে বারবার নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয়ে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর গত সপ্তাহেই পিয়ংইয়ং দুই দফা স্বল্প মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাও চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই তারা এটি করছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। তবে জাহাজ জব্দের সঙ্গে এসব পরীক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই, জানিয়েছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
প্রথমবারের মতো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। এরপর আরো একটি বৈঠক হলেও কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। পরপর দুই দফা উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জাহাজ জব্দের ঘটনাকে দুই দেশের নাজুক সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশ আবার চরম বৈরী অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।
