সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদীর বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। পাহাড়ী নদীর পানি বাড়ার সাথে সাথে পানির স্রোতের সাথে নদী তীরবর্তী চাপ চাপ মাটি ভেঙ্গে পড়ছে নদীগর্ভে। এতে নদীতে পলি পরিমাণ বাড়ছে। একই সাথে গ্রাম, ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। আর এ ভাঙ্গন প্রতি বর্ষায় জোরদার হয়ে কত সম্পদ নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে-তারও সাঠিক হিসাব নেই।
এদিকে গত কয়েকদিন থেকে সীমান্তবর্তী কানাইঘাটের সুরমা ও লোভা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েকটি গ্রাম। ইতোপূর্বে কান্দেবপুর নামক গ্রামটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদীর ভাঙ্গন দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারণ করায় হুমকির মুখে পড়েছে লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউপির দক্ষিণ লক্ষ্মীপ্রসাদ, উত্তর লক্ষ্মীপ্রসাদ, কুওরঘড়ি গ্রাম, সদর ইউপির গৌরিপুর এবং পৌরসভার ডালাইচর, গৌরিপুর, নয়ামাটি, বিষ্ণুপুর, কান্দেবপুর গ্রামসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এলাকার শিক্ষার্থীরা ডাইক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে, যে কোনো সময় নদী ভাঙ্গনে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পাওে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসী বাপ-দাদার ভিটেমাটি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
পাহাড়ী ঢলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত সোমবার সকালের দিকে দক্ষিণ লক্ষ্মীপ্রসাদ গ্রামের মরা আমরির মুখ নামক স্থানে সুরমা ডাইকে বিশাল ফাটল দিয়ে নদী ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী জানান, যে কোনো সময় সুরমা ও লোভা নদী ডাইকের ফাটলে ভাঙ্গন ধরলে বিশাল ক্ষতিগ্রস্ত হবে গ্রামবাসী। তারা জানান, সুরমা ও লোভা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমি, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাত্ক্ষণিকভাবে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
