সিলেটে প্রতিবাদে ৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি
সিলেট অফিস
সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন দায়িত্বরত একজন মহিলা চিকিত্সক, সিকিউরিটি গার্ড ও লিফটম্যান। এসময় হাসপাতাল এলাকা জুড়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগ কর্মীদের এমন উদ্যত আচরণের প্রতিবাদে ঐ হাসপাতালের চিকিত্সকরা হাসপাতালের বাইরে সন্ধ্যা থেকে কর্মবিরতি পালন করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা কাজে যোগ দেন। কর্মবিরতি পালনকালে তারা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন।
উইমেন্স কলেজে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে ফেইসবুকে পোস্ট করার সঙ্গে সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকেই ঘটনার প্রতিবাদ ও নিন্দা করেন। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট একজন সিনিয়র ডাক্তার গতকাল ইত্তেফাককে জানান, তারা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বন্ধ ছিল, তাই আজ শনিবার সকলে মিলে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে।
সূত্র জানায় বৃহস্পতিবার বিকালে ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার চৌধুরী তার ১৪-১৫ জন সহকর্মীসহ অ্যাপেন্ডিসাইটিসের এক রোগীকে নিয়ে উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। হাসপাতালে প্রবেশের সময় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত সিকিউরিটি গার্ড ও লিফটম্যানকে লাঞ্ছিত করে তারা। পরে চিকিত্সকের শরণাপন্ন হলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের বিষয়টি সপর্শকাতর হওয়ায় দায়িত্বরত মহিলা ইন্টার্ন চিকিত্সক সবাইকে একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে রোগীকে সিনিয়র চিকিত্সক দেখবেন বলে জানান।
এ সময় সারোয়ার চৌধুরী নিজেকে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে তিনিসহ সবাই ইন্টার্ন চিকিত্সকের সঙ্গে উদ্যত আচরণ ও গালিগালাজ করেন। এতে ভয়ে লজ্জায় কেঁদে ফেলেন ওই ইন্টার্ন চিকিত্সক। ঘটনার একপর্যায়ে সারোয়ার চৌধুরী ছুরি নিয়েও ইন্টার্ন চিকিত্সককে ধাওয়া করেন। পরে হাসপাতালে দায়িত্বরতদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনার পর হাসপাতালের দুজন চিকিত্সককে মুঠোফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
