রাজশাহীতে লিটন-বুলবুলের পক্ষে তত্পর কেন্দ্রীয় নেতারা

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৩, ২৩:০৩
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনকে দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনকে নির্দলীয় বলা হচ্ছে। অথচ নির্বাচনী ফলাফল পক্ষে নিতে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির দুই ডজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজ নিজ দলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে রাজশাহী মহানগরীর অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। সমাবেশ ও পথসভা ছাড়াও তারা সাধারণ ভোটারদের হাতে দলীয় প্রার্থীর লিফলেট ধরিয়ে দিয়ে ভোট চাইছেন। রাজশাহী নাগরিক কমিটি মনোনীত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী, সদ্য সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে বিজয়ী করতে আজ সোমবার রাজশাহী আসছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ এমপি এবং জনপ্রিয় অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর এমপি। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে ইতিমধ্যে রাজশাহী পৌঁছেছেন আরেক কণ্ঠশিল্পী আসিফ। বর্তমানে রাজশাহীতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতা লিয়াকত শিকদার, কামরুল হাসান খোকন, হাসান মাহমুদ। আজ অথবা মঙ্গলবার আসবেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ। ইতিমধ্যে একদফা রাজশাহী ঘুরে গেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তাদের আবারো রাজশাহী আসার কথা রয়েছে। এছাড়া রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপিসহ অপর চারটি আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যগণ লিটনের পক্ষে মাঠে রয়েছেন। তবে সরকারের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী সরাসরি লিটনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না। তাই বলে তিনিও বাদ যাচ্ছেন না। নিজের নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মী ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাজশাহীর বাইরে থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে দিয়েছেন তিনি। তারা লিটনের পক্ষে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পিছিয়ে নেই বিএনপিও। সম্মিলিত নাগরিক ফোরাম মনোনীত ও বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে এই মুহূর্তে রাজশাহীতে অবস্থান করছেন বিএনপির প্রায় একডজন কেন্দ্রীয় নেতা। তার পক্ষে রাজশাহী মহানগরীর অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, যুগ্ম-মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু ও অ্যাডভোকেট মাহবুবউদ্দিন খোকন, বিশেষ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাদিম মোস্তফা, রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, আশিয়া আশরাফি পাপিয়া এমপি প্রমুখ। তারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শেয়ার বাজার ও পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের কথা বলে তারা ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্ল¬ায় পথসভায় বক্তব্য রাখছেন। তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট কারচুপির আশঙ্কার কথা বলে দলীয় নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র ঘিরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, এই নির্বাচনের রায়ের মাধ্যমেই সরকার পতনের সূচনা ঘটবে। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন জানান, বুলবুলকে বিজয়ী করার বিষয়টি বিএনপি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সবমিলিয়ে রাজশাহীতে এখন বিরাজ করছে উত্সবের আমেজ। বস্তি নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ লিটনের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গতকাল রবিবার সকালে মির্জাপুর মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। এরপর তিনি চৌদ্দপাই, মাসকাটাদীঘি, মোহনপুর ও বুধপাড়ায় ভোটারদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন।