বকেয়া বিলের কারণে গতকাল রবিবার দুপুর থেকেই বিদ্যুত্ বিচ্ছন্ন হয়ে ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অফিস ও মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। বিসিবি নিয়মিত বিল পরিশোধ করলেও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) বিদ্যুত্ সংযোগ কেটে দেয়ার ফলে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ক্রিকেট বোর্ড। তবে ডেসকোর হিসাব অনুযায়ী বিসিবির কাছ থেকে তারা পাবে এক কোটি ১২ লাখ টাকা। বিসিবি দাবি করেছে, এই বকেয়া তাদের নয়। এটা স্টেডিয়ামের ৮৬টি দোকান, ক্রীড়াপল্লী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) স্টাফ কোয়ার্টার ও পানির পাম্পের বিল। বিসিবি আজ সোমবারের তারিখে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক দেয়ার পর ডেসকো গতকাল রাতেই স্টেডিয়ামে বিদ্যুত্ সংযোগ পুনঃস্থাপন করে। ডেসকোর পরিচালক মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, বিসিবি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাকি ৮২ লাখ টাকা ২৭ জুনের মধ্যে পরিশোধ করবে।
গতকাল ক্ষোভের সঙ্গেই বিসিবির ভেন্যু প্রশাসক কর্নেল (অবঃ) একেএম জাকি বলেন, আমরা প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা করে বিল দিচ্ছি। অথচ ৮৬টি দোকানের বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুতের পুরো লাইন বন্ধ করে দিয়েছে ডেসকো। তিনি উল্লেখ করেন, মূল সমস্যাটা তৈরি হয়েছে বিদ্যুতের মিটারে। পুরো স্টেডিয়ামের জন্য বিদ্যুতের মূল মিটার একটি। দোকানগুলোর জন্য আলাদা সাব-মিটার রয়েছে। দোকান মালিক সমিতি প্রতিটি দোকানের বিল তুললেও পর্যাপ্ত বিল পরিশোধ করা হয় না।
২০০৭ সাল থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামে বিসিবির অফিস রয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত বিদ্যুতের মিটার কেন ভাগ করা হয়নি এমন প্রশ্নে ভেন্যু প্রশাসক বলেন, আমরা বারবার এনএসসিকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে তারা এটাকে আমলে নেয়নি। সর্বশেষ দেড় মাস আগে আমরা একটি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এনএসসি সেই চিঠিরও কোন জবাব দেয়নি। বিদ্যুত্ বিল দেয়ার কথা এনএসসির। একবার তারা ৩৩ লাখ টাকাও দিয়েছে। কিন্তু প্রতি মাসে আমরাই বিল পরিশোধ করছি। এ ব্যাপারে কাল এনএসসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক হাবিবুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
