কক্সবাজারে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গা সিন্ডিকেট

আপডেট : ১০ মে ২০১৯, ২২:১১

রফিক উদ্দিন বাবুল, উখিয়া (কক্সবাজার), সংবাদদাতা

ইয়াবার চালান মজুদ ও পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে খ্যাত রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিত্তিক পাচারকারী সিন্ডিকেটকে সহযোগিতা করছে স্থানীয় চিহ্নিত ইয়াবা কারবারীরা। তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকার জন্য রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের সংমিশ্রণে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে শক্তি সঞ্চয় করছে। এতে পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠার আশংকা প্রকাশ করছেন এলাকার বিশিষ্টজনেরা।

সূত্র বলছে, টেকনাফ থানার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান ও তাদের সাথে বন্দুক যুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার ঝাউবাগানে দুইজনসহ এ পর্যন্ত ১২ জন রোহিঙ্গা ইয়াবা কারবারি নিহত হয়েছে। পুুলিশের তথ্য মতে, সামপ্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ও হতাহতদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা নাগরিক।

বুধবার ইনানী ব্লু অর্কিড মিলনায়তনে ইউএনডিপি আয়োজিত এক সেমিনারে অংশগ্রহণকারী পালংখালী ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বলেন, রোহিঙ্গারা এখন তাদের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলছে শুধুমাত্র ইয়াবা পাচারের লক্ষ্যে। পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের ভোগ দখলীয় জমিজমা সহায়সম্পত্তি জবর দখল করার মনমানসিকতা নিয়ে এগোচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে যেকোন সময়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। কক্সবাজার-৩৪ বিজিবির লে: কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহম্মদ এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সীমান্তের নাফ নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ চিংড়ি প্রজেক্ট এলাকা দিয়ে ইয়াবা আসছে, এরকম তাদের কাছে খবর আছে। তবে চিংড়ি ঘের ও নাফ নদীতে মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে এমন হাজারো পরিবারের কথা মাথায় রেখে সীমান্ত এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ করা হয়নি। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসে সীমান্ত এলাকা দিয়ে কোনো প্রকার চোরাচালান ও মরণ নেশা ইয়াবা যাতে পাচার হতে না পারে সে জন্য বিজিবি কঠোর অবস্থানে আছে। প্রয়োজন হলে চিংড়ি প্রজেক্ট এলাকায় মাছ ধরার নামে অবাধ চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ আসতে পারে।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল খায়ের জানান, বালুখালী পূর্বপাড়া, কাঁটা পাহাড়, রহমতেরবিল ও ধমধমিয়াসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবার চালান আসছে। তিনি বলেন, গত ২৭ এপ্রিল রাত আড়াইটার দিকে বালুখালী পান বাজারের অনতিদূরে ব্রিজের উপর দিয়ে ক্যাম্পে ঢুকার আগেই ধাওয়া করে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের একটি বড় ধরনের ইয়াবার চালান আটকের ঘটনার পর থেকে উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।