নিজের শরীরের যত্ন নিন

আপডেট : ১০ জুন ২০১৩, ১৯:৫১
নিজের যত্ন নেবার ইচ্ছা কার না থাকে। অভাব শুধু সময়ের। এই ব্যস্ত জীবনে সংসার, কাজ, লেখাপড়া ইত্যাদি শতেক ঝামেলা শেষে দেখা যায় নিজের যত্ন নেওয়ার মতো সময় বের করা হয় না। আর সেই কারণেই কী আপনি অবসাদগ্রস্তদের দলে? একেবারেই নয়! মূল কথা হলো নিজেকে ফিট রাখা। শত ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা সময় বের করে নিজের যত্ন নেওয়ার কিছু টিপস নিয়ে আয়োজনটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ব্যস্ততার মাঝে নিজের যত্ন নেওয়ার আদর্শ সমাধান হতে পারে ঠিক ঘুমাতে যাওয়ার আগের সময়টুকুতে রূপচর্চার কাজটুকু সেরে ফেলা। মৌলিক কিছু পরিচর্যা আছে, যা প্রতিদিনই টুকটাক করা উচিত। এই নিয়মিত যত্নটুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রোজ রাতে একটু নিজের পরিচর্যা করে ঘুমালে জীবনভর সুস্থ-সুন্দর থাকা খুবই সম্ভব। শোয়ার আগে রূপচর্চা মানেই একগাদা সাজ-সরঞ্জাম জোগাড় করে, এটা-ওটা লাগিয়ে-মাখিয়ে ঘুমচোখে বসে থাকা নয় মোটেও। বরং ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজের সৌন্দর্যকে দেওয়া একটুখানি বাড়তি সময়, যা কিনা সকালে আপনাকে জাগিয়ে তুলবে আগের চাইতে অনেক বেশি সজীবতায়। প্রথমেই খাদ্যাভ্যাস আমাদের দেশের প্রথা অনুযায়ী সবাই একত্র হওয়ায় রাতের খাবারই হয় সারা দিনের মূল ও বেশ ভারী আহার। তাই ঘুমানোর আগে হালকা খাবার খাওয়াটা বাঞ্ছনীয় হলেও চাইলেও আলাদা করে নিজের জন্য আলাদা কিছু করে নেওয়াটা সব সময় সম্ভব হয় না। আর তাই রাতের খাওয়ার মেন্যু বদলের ঝঞ্ঝাটে না গিয়ে পরিবারের সবাই মিলে ঘুমানোর অন্তত ঘণ্টা তিনেক আগে খাওয়ার অভ্যাস করুন, যাতে খেয়েই শুয়ে না পড়তে হয়, যা খুব ক্ষতিকর। খেয়ে নিয়ে আধ ঘণ্টা হাঁটুন। জানা থাকলে অন্যান্য ছোটখাটো ব্যায়াম, ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে পারেন। তার আধ ঘণ্টা পর শুতে যান। এতে শরীর বেশ ঝরঝরে লাগবে। খাওয়ার পর খেতে পারেন এককাপ চায়নিজ জেসমিন টি, এতে শরীরে মেদ জমবে না। ঘুমানোর আগে একগ্লাস পানি খেয়ে নিন। নিয়মমাফিক পরিচর্যা, সুষম খাবার, সুন্দর জীবনযাপন আপনাকে ভালো ও সুস্থ রাখবে। আর সুস্থতা প্রতিফলিত হবে আপনার বাহ্যিক সৌন্দর্যে। তাই আপনার বিরামহীন কর্মব্যস্ততার মধ্যেও ঘুমের আগে এটুকু ঘরোয়া পরিচর্যাতেই আপনি থাকবেন একদম সুস্থ, প্রাণবন্ত, সুন্দর। ত্বকের যত্ন সুন্দর ত্বকের মূলমন্ত্রই হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। ত্বকের ময়লা ঠিকমতো পরিষ্কার করা না হলে পিম্পল, ব্রণ (অ্যাকনে), র্যাশ হতে পারে। ত্বক হয়ে পড়ে খসখসে, রুক্ষ, অমসৃণ। তাই রাতে ঘুমানোর আগে মুখটাকে পরিষ্কার করে ঘুমালে সারা রাতের লম্বা সময় ত্বক একেবারে তরতাজা থাকবে। তবে সবকিছুর আগে বুঝে নিতে হবে নিজের ত্বকের ধরন, যা নিজেই পরীক্ষা করে নিতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন— নাকের দুই পাশে, গালে অতিরিক্ত তেলতেলে হয়ে আছে, তাহলে ত্বক অবশ্যই তৈলাক্ত। মুখটা বেশ টান ও শুকনো থাকলে, পিম্পলের তেমন প্রবণতা না হলে ত্বক একেবারে শুষ্ক। নাকের ওপর ও দুই পাশে তৈলাক্ত, কিন্তু বাকিটা চেহারায় টানটান ভাব থাকলে ত্বকের ধরন মিশ্র। তার পরও অবশ্যই কোনো বিশেষজ্ঞের পারামর্শ নিয়ে আপনার ত্বকের ধরন আগে যাচাই করে নিতে পারেন। ধরন বুঝে করতে হবে যত্ন। ত্বকের যত্নে ক্লিনজিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং করতে হবে ঘুমানোর আগে। ‘ফিল গুড’ চেহারা সবারই কমবেশি খুঁত থাকে। হতাশ না হয়ে নিজেকে ভালোবেসে মেনটেইন করুন চেহারা কিংবা বডি ফিটনেসের জন্য পছন্দমতো ড্রেস পরতে পারছেন না। সে ক্ষেত্রে নিজের সাথে মানানসই ড্রেস পরাটাই উত্তম। তাতে আপনাকে ভালোই লাগবে, কারণ সৌন্দর্য জমকালো পোশাকের তুলনায় মানানসই পোশাকেই বেশি ফুটে ওঠে। নিজেকে ভালবাসার আরও একটি মন্ত্র হলো ডোন্ট ফিল গিল্টি। কোনো পার্টিতে গিয়ে একটু বেশি খেয়ে ফেলার পর মনে হতে পারে ভুল হয়ে গেছে, ডায়েটিং চলছে, খাওয়াটা উচিত হয়নি। আর কখনও খাব না!—এ জাতীয় রেজলিউশন নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরেরদিন একটু বেশি ওয়ার্কআউট নিলেই হবে। টিপস ছেলেদের দৈনন্দিনের যত্ন ছেলেরাই সবচেয়ে বেশি সময় বাইরে থাকে। আর হরমোনজনিত কারণেই বেশির ভাগ ছেলের ত্বক তৈলাক্ত। এ নিয়ে ঝক্কিও কম পোহাতে হয় না। মুখ নিঃসৃত তেল, পরিবেশের ধুলাবালি একত্রে মিলেমিশে তৈরি হয় ব্রণ। তবে যে কারণেই ত্বক তৈলাক্ত হোক না কেন মুখ সবসময় পরিষ্কার রাখলে তৈলাক্ত হবে না। সেই সঙ্গে ব্রণের মতো সমস্যার হাত থেকেও রক্ষা পাওয়া যাবে। সুন্দর ও পরিষ্কার রাখার জন্য ছেলেদের পায়েরও যত্নের প্রয়োজন। পায়ের যত্নে পেডিকিউর করানো যেতে পারে। চাইলে এটি আপনি আপনার ঘরে বসেও করতে পারেন। ছেলেদের ত্বক এবং পায়ের যত্ন নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। তৈলাক্ততা কমাতে যা করবেন বাইরে বেরোনোর আগে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন। এক্ষেত্রে অয়েল ফ্রি ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে অয়েল ফ্রি ময়েশ্চারাইজারও ব্যবহার করুন। ঘাম বা তৈলাক্ততার হাত থেকে রেহাই পেতে মুখে ওয়েটটিস্যু ব্যবহার করুন। নাকের দুই পাশ এবং গালের দুই পাশ থেকে তেল বেরোয়। যাদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত তারা সপ্তাহে এক দিন পর পর যেকোনো ধরনের ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। মুলতানি মাটির ফেসপ্যাক দুই চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে পরিমাণমতো গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট করে সারা মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। চন্দন প্যাক এক চামচ চন্দন গুঁড়োর সঙ্গে এক চামচ মুলতানি মাটি এবং পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মুখে ১০-১৫ মিনিট রেখে শুকিয়ে এলে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা প্যাক একটি ডিমের সাদা অংশ, দুই চামচ অ্যালোভেরা পাতার রস এবং এক চামচ লেবুর রস মিশিয়ে ভালোভাবে প্যাক তৈরি করুন। পুরো মুখে লাগান, শুকিয়ে এলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। লক্ষ রাখুন দিনে কয়েকবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার চেষ্টা করুন। ব্রণ থাকলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখাতে পারেন। যদি প্যাক লাগানোর মতো সময় না থাকে তো গোসলের আগে প্যাকটি মুখে লাগিয়ে দুই থেকে তিন মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ গ্লাস পানি খান। পায়ের যত্ন প্রথমে উষ্ণ পানিতে শ্যাম্পু, যেকোনো জীবাণুনাশক তরল যেমন—স্যাভলন বা ডেটল, একটু লবণ ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। তাতে আপনার পা-দুটি ভিজিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। এবার একটি নরম ব্রাশ দিয়ে হাঁটু পর্যন্ত ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কার করুন। নখের অতিরিক্ত অংশ নেইল কাটার দিয়ে কেটে ফেলুন। নেইল ফাইলে নখ আলতো করে ঘষে চাহিদামতো আকারে নিয়ে আসুন। এবার স্ক্র্যাব দিয়ে মালিশ করুন পাঁচ মিনিট। এখন পা-দুটি পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে নিন। এবার নখের ওপর ভ্যাসলিন দিয়ে রাখুন। পাঁচ মিনিট পর নখের ওপরের ময়লা ঘষে পরিষ্কার করে নিন এবং মুছে নিন। সবশেষে আপনার পছন্দমতো ময়েশ্চারাইজিং লোশন দিয়ে পা দুটি মালিশ করুন ১০ মিনিট। এতে আপনার পা নরম হবে এবং পায়ের উজ্জ্বলতা বাড়বে।