ওভালে মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর এই ম্যাচকে সামনে রেখে ভারতীয় শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন-আপকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক ডুয়াইন ব্র্যাভো।
উভয় দলই যেহেতু নিজেদের প্রথম ম্যাচ জয়ী হয়েছে তাই কালকের ম্যাচে জয়ের অর্থ হচ্ছে গ্রুপ বি থেকে প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করা। প্রথম ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত কার্ডিফে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৬ রানে পরাজিত করে। ম্যাচটিতে ৭ উইকেটে ৩৩১ রানের ইনিংস ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপের শক্তিমত্তাকে আরেকবার প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে শুক্রবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওভালে পাকিস্তানকে ১৭০ রানে আটকে দিয়ে পরে দুই উইকেটের জয় তুলে নেয়।
টুর্নামেন্টের আগে নিয়মিত অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির পরিবর্তে ক্যারিবীয় দলের অধিনায়কত্ব লাভ করেন অল রাউন্ডার ব্র্যাভো। ইন-ফর্ম ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ব্যাটিং বিপর্যয়ে খুব একটা চিন্তিত নন বলে জানিয়েছেন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। ব্র্যাভো বলেন, ‘আমরা নিজেদের প্রমাণ করেছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আট বা নয় উইকেটে জেতা কোন ব্যাপার নয়, আমরা প্রথম ম্যাচে দুই পয়েন্ট অর্জন করে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করেছি।
গত সপ্তাহে অনুশীলন ম্যাচে এজবাস্টনে শ্রীলংকার কাছে ১৭ রানে পরাজিত হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু ব্র্যাভো মনে করে পরপর দুই ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারলে পরবর্তীতে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে তা মানসিক শক্তি যোগাবে। ভারতীয় প্রিমিয়ার লীগে মহেন্দ্র সিং ধোনীর চেন্নাই সুপার কিংসের পক্ষে খেলেছেন ব্র্যাভো। তিনি মনে করেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উপর প্রভাব বিস্তার করার মত সম্পদ তার দলে রয়েছে, ‘এটা আরেকটি কঠিন ম্যাচ। আর আমরা যাদের বিপক্ষে খেলবো তাদের মূল শক্তি ব্যাটিং। ভারত হয়তবা কালকের ম্যাচে ভাল ব্যাটিং নাও করতে পারে অথবা বরাবরের মতই বড় স্কোর গড়ে তুলতে পারে। আমার পেসারদের উপর পূর্ণ আস্থা আছে। বর্তমানে আমরা সঠিক পথেই আছি। রিজার্ভ বেঞ্চেও আমার যথেষ্ট খেলোয়াড় রয়েছে। তারাও সমান শক্তিশালী। এসব নিয়েই আমি ভারতের বিপক্ষে ভাল খেলার ব্যাপারে আশাবাদী।’
পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়টা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অধিনায়কত্ব করার আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্র্যাভো বলেন এটা তার ব্যক্তিগতভাবে দারুণ একটি অর্জন। কিন্তু এর পুরোটাই তার অধিনায়কত্বের জন্য নয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দলের এই সাফল্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাধারণত টুর্নামেন্টের শুরুটা ভাল করতে পারে না। আর তাই প্রথম ম্যাচের জয়টা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন বাকি ম্যাচগুলোর জন্য পুরো দল মুখিয়ে আছে।
গত তিন বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ১১টি ওয়ানডের মধ্যে আটটিতেই জয়ী হয়েছে ভারত। আর কালকের ম্যাচেও গত কয়েক সপ্তাহের মতই নিজেদের ব্যাটিংকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় ধোনী বাহিনী। বার্মিংহামে শ্রীলংকার ৫ উইকেটে ৩৩৩ রানের জবাবে দিনেশ কার্তিকের অপরাজিত ১০৬ এবং বিরাট কোহলির ১৪৪ রানে ভর করে দারুণ এক জয় তুলে নেয় ভারত। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ানের ৯৪ বলে ১১৪ রানে ভর করে ৩০০র বেশি রান সংগ্রহ করে। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ জয়ী ক্রিস গেইল, মারলন স্যামুয়েলস এবং কিয়েরন পোলার্ডের মত ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে ভারতীয় বোলিং আক্রমণ কতটা কার্যকরি হয়ে উঠতে পারে তার উপর ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ভর করছে। - বাসস/এএফপি
