গরমের তেজ আরো বাড়বে

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০০:৩২

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ চলে যাওয়ার পর এখন বঙ্গোপসাগর নিস্তরঙ্গ, শান্ত। আকাশও মেঘমুক্ত। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্য। সূর্য যেন ঢালছে তরল তপ্ত খরতাপ। দুপুরে রোদের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। তাতানো সূর্য রুদ্রমূর্তি ধারণ করছে। বাতাসে অগ্নিহল্কা। মানুষ ও প্রাণিকূল গরমে হাসফাঁস করছেন। অস্বস্থিকর পরিবেশ। রোজাদাররা পানি তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ছেন। সারাদেশে বয়ে যাচ্ছে দাবদাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই তাপ কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। আরো বাড়তে পারে তাপের তেজ। অব্যাহত থাকতে পারে দু-তিন দিন।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক গতকাল রাতে ইত্তেফাককে বলেন, সোমবার থেকে দেশের অনেক এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি না হলে তাপ প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এপ্রিল-মে মাস গরমের মৌসুম। তবে এ বছর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। গতকাল রাজশাহীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি  সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রা ছিল। সেখানে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। আর ঢাকায় গতকাল গড় তাপমাত্রার চেয়ে দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। যা গত ৩০ বছরে এপ্রিল-মে’র এই সময়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে গড় তাপমাত্রায় রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২।

তীব্র গরমের কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদরা বলেন, ‘ফণী’ চলে যাওয়ার পর কোথাও বৃষ্টি-বাদল নেই। বেড়েছে দিনের ব্যাপ্তি। বাতাসে জলীয় বাষ্প বৃদ্ধি পেয়েছে। জলীয় বাষ্প বাড়লে গরম যতটুকু থাকুক অস্বস্তি বাড়ে।  

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে আরও একটা নিম্নচাপের আশঙ্কা করছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর। ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এটির নাম রাখা হয়েছে ‘বায়ু’। তবে এখনো এই ‘বায়ু’ সক্রিয় হয়নি।

চলতি মে মাসের আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়, এ মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে) এবং অন্যত্র ১-২টি মৃদু তাপপ্রবাহ (৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি তাপপ্রবাহ (৩৮-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চলে ২-৩ দিন মাঝারি/তীব্র কালবৈশাখী এবং দেশের অন্যত্র ৩-৪ দিন হালকা/মাঝারি কালবৈশাখী হতে পারে। এ সময় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

রাজশাহী অঞ্চলকে খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। একইসঙ্গে পদ্মায় পানি সংকট নিরসনে উত্তর রাজশাহী সেচ প্রকল্প ও গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। বৃহস্পতিবার সকালে পরিষদের নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে এসব দাবি জানান। এসময় অন্যদের মধ্যে পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সময়ে রাজশাহীর উপর দিয়ে তীব্র তাপদাহ প্রবাহিত হচ্ছে; এটি খরাপ্রবণ এলাকার স্পষ্ট লক্ষণ। পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে এবং ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার না করার ফলে এই এলাকা দ্রুত বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় জরুরিভিত্তিতে এই অঞ্চলকে খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন।