সরকারি ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

পুঁথিবিদ্যা আর হাতে কলমে শেখা

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ১৮:৫৪
সরকারি ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। মেয়েদের জন্য পলিটেকনিক। ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি, আর্কিটেকচার টেকনোলজি, কম্পিউটার টেকনোলজি, ইলেকট্রোমেডিক্যাল টেকনোলজি, ইনস্ট্রুমেন্টাল অ্যান্ড প্রসেস কন্ট্রোল টেকনোলজি-এই পাঁচটি বিভাগ নিয়ে চলছে ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। চার বছর মেয়াদি কোর্সে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় ডিপ্লোমা ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এই পাঁচ বিভাগ। যেখানে সাতটি সেমিস্টার চলবে চার দেয়ালের ক্লাসে, আর সপ্তম সেমিস্টারে থাকবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং। সবশেষে চার সপ্তাহের প্রেজেন্টেশন পর্ব উত্তীর্ণ হলেই হয়ে যাবেন একজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। ঢাকা মহিলা পলিটেকনিকে যেমন চলে ডাস্টার বোর্ডের ক্লাস, তেমনি চলে যন্ত্রপাতির ল্যাব। প্রতিটি বিভাগেই আছে ল্যাবরেটরি। পুঁথিবিদ্যা আর হাতে-কলমের শিক্ষা, দুটোই চলে সমান তালে। তবে ক্লাসের পড়াই সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে লুম্যেসু মারমার। লু বলেন, গল্পের ছলে ক্লাস কখন শেষ হয় টেরই পাই না। তাই ক্লাসই বেশি ভালো লাগে। মালিহা মাহিন আর নিশাতের অবশ্য ল্যাবের কাজই বেশি ভালো লাগে। তারা বলেন, হাতে-কলমে না শিখলে কি আর শেখা হয়? তবে একটা ব্যাপারে সবাই একমত, ‘সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে স্যার-আপাদের। ক্লাস কি ল্যাব— তাদের ছাড়া সবই শূন্য।’ ক্লাসের ফাঁকে আর কী থাকে? চলে গান, নাচ, কবিতা, জাতীয় দিবস উদযাপন, খেলাধুলা, সেমিনার আর বিতর্ক। মজার খুনসুটিতে চলে ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা। পড়া, খেলা, ক্লাসের গ্রুপিং, ঝগড়া— কিছুই বাদ থাকে না আড্ডার তালিকায়। হেসে বললেন আফরিন আরা। ‘আমি খাগড়াছড়ির মেয়ে। ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার (ইইই) হতে চাই, যাতে খাগড়াছড়িকে আরো উন্নত করতে পারি’, বললেন খাগড়াছড়ির সুপ্রিয়া চাকমা। ‘আমি তাড়াতাড়ি স্বাবলম্বী হতে চাই। তাই পড়ছি ঢাকা মহিলা পলিটেকনিকে’, বললেন মুনা তাবাসসুম। ‘এখানে কোনো সেশন জট নেই। চার বছর পরই শেষ হবে পড়া, একই সঙ্গে থাকবে ভালো বেতনের চাকরি। তাই পড়ছি,’ বললেন লুসিয়া চাকমা। জেরিন নামের এক মেয়ে বললেন, ‘বাংলাদেশে কারিগরি বিদ্যার কদর দিন দিন বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে সাধারণ শিক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা। অথচ আমি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করলেই সরকারি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করতে পারব। যেখানে অন্যদের অপেক্ষা করতে হবে অনেকগুলো অনিশ্চিত বছর। তাই পড়ছি পলিটেকনিকে।’ বলা প্রয়োজন, পলিটেকনিকের ছাত্র-ছাত্রীরা আজ দেশের আনাচে-কানাচে কাজ করছেন। শুধু চাকরি নয়, পলিটেকনিক তৈরি করছেন উদ্যোক্তা। যারা কাজ করছেন দেশের আর্কিটেকচার ফার্ম, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ফার্নিচার, টেক্সটাইল, সিরামিকস, জুট মিল, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেতার, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র, রাজউকসহ অসংখ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও। ব্যক্তিগত উদ্যোগ তো আছেই। কানিজ ফাতেমা আরকাতুন নেসা এবং কবিতা হোসেন। বাংলাদেশের প্রথম দুই নারী, যারা শুরু করেছিলেন কারিগরি শিক্ষার পথে প্রথম পথচলা। সময়টা ১৯৭৬ সাল। ঢাকা পলিটেকনিকে প্রায় আড়াই হাজার ছেলের মধ্যে জড়সড় হয়ে ক্লাস করতেন তারা দুই জন। এখন শিক্ষকতা করছেন ঢাকা মহিলা পলিটেকনিকে। ঢাকা মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বলেন, কারিগরির দিকে মেয়েরা দিন দিন ভালো করছে। তাই যত বেশি মহিলা পলিটেকনিক হবে, তত বেশি তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। নারীরা স্বাবলম্বী হবে।