উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগে প্রধান বাধা অস্থিতিশীল রাজনীতি

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২১:২২
একটি দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে বিদেশি বিনিয়োগের বিকল্প কিছু হতে পারে না। যে দেশ যত বেশি বিদেশি বিনিয়োগকারী টানতে পারবে সে দেশ তত উন্নতির ক্ষেত্রে সফলতার মুখ দেখবে। অনেক দেশ আছে যেখানে শুধু তারা বিদেশি বিনিয়োগ পেয়ে অর্থনীতিতে বড় ধরনের অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশ বর্তমানে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। কিন্তু বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যতটা ভালো হওয়ার কথা ছিল তা না হওয়ার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের পুঁজি লগ্নি করতে ভরসা পাচ্ছে না। শুধু দেশের বড় দু’রাজনৈতিক দলের অসহিষ্ণুতার কারণে আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি থেকে পিছিয়ে রয়েছি। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত রাজনৈতিক ওয়াদা আদায় করা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের অগ্রগতি শ্লথই থাকবে। তাছাড়া বাংলাদেশের অনেক ইতিবাচক অর্জন আছে যা বিশ্ব দরবারে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাটাও অত্যন্ত জরুরি। সুষ্ঠু রাজনীতি একটি দেশের চেহারাই পালটে দিতে পারে। যেমন মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ সে দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিংবদন্তী হয়ে থাকবেন। এরকম দেশপ্রেমিক একজন নেতার বড় প্রয়োজন আমাদের। আমাদের সম্পদ রয়েছে অফুরন্ত। কিন্তু আমরা সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছি। একটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা দেখলে অবাক হতে হয়। যেখানে বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের টানার কথা, সেখানে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্-গ্যাসের অভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তারপরও যে-সব কারণে আমাদের অর্থনীতি এখন পর্যন্ত টিকে আছে তার অন্যতম হলো প্রবাসী রেমিটেন্স প্রেরণ। যেখানে ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো বড় দেশগুলোর অবস্থা শোচনীয় সেখানে শুধুমাত্র বাংলাদেশের পোশাকখাত এবং প্রবাসীদের অর্থ আমাদের রিজার্ভ ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। নইলে অর্থনীতিতে বিপর্যস্ত অবস্থায় পতিত হওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো গত্যন্তর থাকতো না। তবে ইদানীং বিশ্বের প্রভাবশালী পত্রিকায় আমাদের অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ আগামী চার দশকে অনেক দেশকে অর্থনীতিতে টপকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। সেটা কি খুব বেশি কঠিন? দেশের অভ্যন্তরে যে সম্পদ রয়েছে এবং কৃষিতে যে প্রবৃদ্ধি আমরা অর্জন করছি সেটা অর্থনীতির জন্য খুবই প্রয়োজন। তাছাড়া দেশের গার্মেন্টস সেক্টর থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি রেভিনিউ আমরা পাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে তা আরো দ্বিগুণ করার মতো সুযোগ আমাদের হাতছানি দিচ্ছে। কিন্তু তা আমরা গ্রহণ করতে পারছি না। কেন পারছি না? শুধু সুষ্ঠু পদক্ষেপের কারণেই এমনটি ঘটছে। বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা বিরাজ করায় তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে অনেক দেশ কম মূল্যের পোশাক সরবরাহের জন্য শুধু অর্ডার দিচ্ছে। আর তা শুধু বাংলাদেশের পক্ষেই সরবরাহ করা সম্ভব। কারণ বাংলাদেশে শ্রমিক মজুরি অনেক কম। সে কারণেই অনেক দেশের পোশাক রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশে ভিড় করছে। কিন্তু আমরা সে অর্ডার ধরে রাখতে পারছি না। পরিশেষে বলবো দেশের রাজনীতি যাঁরা করেন তাঁদের কাছে দেশ বড় না তাঁদের ক্ষমতার মোহ বড়, দেশ স্থিতিশীল থাকা বেশি ভালো না নৈরাজ্য করে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করাটাই শ্রেয়— সেটা আগে তাঁদের চিন্তা করে বের করতে হবে। দেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে। হরতাল-ভাংচুরের রাজনীতি থেকে সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চার বলয় গড়ে তুলতে হবে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রীদ্বয়কে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে। তাহলেই দেশে শান্তি ফিরে আসবে। নৈরাজ্য করে আর যা হোক কোনো দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারে না। মুন্সীগঞ্জ