ধামরাইয়ের গাজীখালী নদী দূষণে দখলে মৃতপ্রায়

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০০:১২

ধামরাই (ঢাকা) সংবাদদাতা:একদা খরস্রোতা ধামরাইয়ের গাজীখালী নদী দূষণে দখলে আজ মৃতপ্রায়। একসময়ে মত্স্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত সেই গাজীখালী নদী আজ প্রায় মত্স্যশূন্য। ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই নদীর বিষাক্ত পানি। দূষিত ও পচা পানির দুর্গন্ধে টিকতে পারছেন না নদী তীরে মানুষ। আক্রান্ত হচ্ছেন নানা অসুখে। অবৈধ দখলের কারণে ক্ষীণ হয়ে পড়েছে গাজীখালী।

উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বাথুলী খেয়াঘাট বেইলি ব্রিজ, নওগাঁও, বারবাড়িয়াসহ গাজীখালীর তীরের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে ভয়াবহ দূষণ আর দখলের কবলে পড়া গাজীখালীর করুণ চিত্র। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গাজীখালী নদীর পানি দূষণের জন্য দায়ী ঢাকা আরিচা মহাসড়কের পাশে,  বিশেষ করে সুতিপাড়া ইউনিয়নে গড়ে ওঠা কয়েকটি বড় বড় শিল্প কারখানা। পার্শ্ববর্তী উপজেলায় অবস্থিত বৃহত্ ফ্যাক্টরির বর্জ্যও গাজীখালী নদীকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নদী তীরের বাসিন্দারা নদী ভরাট করে ঘরবাড়ি তৈরি করছে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য গাজীখালীকে দূষণ আর দখল থেকে মুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন ধামরাইয়ের সচেতন মানুষেরা।

ধামরাইয়ের আর এক নদী বংশীরও একই অবস্থা। অন্য দিকে, শ্রীরামপুরের মরাখালীও দূষণ আর দখলের যন্ত্রণায় মরছে ধুঁকে ধুঁকে। সুতিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা বলেন, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার স্বার্থে গাজীখালী ও শ্রীরামপুরের খালকে দূষণ ও দখলমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সরকার ও সকলের সহযোগিতায় শিগগিরই গাজীখালী নদী ও শ্রীরামপুরের খালকে দূষণ ও দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, সীমানা নির্ধারণ করার পর উপজেলার সমস্ত নদী এবং খালকে দূষণ ও দখলমুক্ত করা হবে।