‘কিছু মানুষ পেট্রোল পুড়িয়ে গাড়ি চালিয়ে কার্বনডাই অক্সাইড ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণ করছে। আর আমরা তার উল্টো কাজ করছি—চারা গাছের পরিচর্যা করে যত্ন দিয়ে গাছ তৈরি করছি যা মানুষকে অক্সিজেন দিচ্ছে আর কার্বনডাই অক্সাইড শুষে নিচ্ছে’—কথাগুলো বলছিলেন পারুল দেবনাথ যিনি ইংরেজি সাহিত্যে লেখাপড়া শেষ করে সাভার সেনা শুটিং ক্লাবের ১২ একর ভাড়া জমিতে গড়ে তুলেছেন বিশাল এক নার্সারি। পারুল বলেন, গাছ সংগ্রহ করা, যত্ন নেওয়া ছিল আমার স্বামী দীপক কুমার দেবনাথের শখ। তার সংগৃহীত চারা গাছের সংগ্রহশালা থেকেই তৈরি করি নার্সারি। স্বামীর নামেই নার্সারির নাম দিয়েছি— ‘দীপক কুমার দেবনাথ নার্সারি অ্যান্ড সার্ভিসেস’, সংক্ষেপে ডিসি নার্সারি অ্যান্ড সার্ভিসেস। পারুল বলেন, ছোট সন্তান আর সংসারের কাজ সামলে নার্সারির কাজে এখন খুব একটা সময় দিতে পারি না।
কথা হয় পারুলের স্বামী দীপক কুমার দেবনাথের সঙ্গেও। দীপক বলেন, যেখানেই চারা গাছ দেখতাম কিনে আনতাম। তখন আমি ঢাকা কলেজে পড়তাম। সেটা ছিল ১৯৯৭ সালের কথা। একটা সময় দেখলাম আমার সংগ্রহে অনেক গাছ জমে গেছে। আর গাছগুলো যেহেতু নিজ হাতে বহু যত্নে বড় করা, তাই ওদের প্রতি অন্যরকম একটা মায়া কাজ করতো। কোনো গাছই হাতছাড়া করতে চাইতাম না। এভাবে বেশ কয়েক বছর পর দেখলাম আমার অসংখ্য গাছের সংগ্রহশালা তৈরি হয়ে গেছে। তখন আমার স্ত্রী পারুল দেবনাথ বলল আমরা একটা নার্সারি গড়ে তুলতে পারি। দীপক বলেন, শখের বসে নার্সারি গড়ে তোলা হলেও এখন এটাই আমাদের পেশা। যেখান থেকে সাধারণ মানুষ গুণগত মানসম্মত গাছের চারা পাবেন’।
তিনি বলেন, নার্সারির কাজটা শুরুর পেছনে যতটা না ছিল উপার্জনের চিন্তা তারচেয়েও বেশি ছিল মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ভাবনা। তিনি বলেন, আমাদের নার্সারিতে ১৮/১৯ জন শ্রমিক কাজ করেন। নার্সারিতে সাফল্যের জন্য জাতীয় বৃক্ষ মেলায় ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আমরা পুরস্কৃত হয়েছি। আমাদের নার্সারিতে ফলজ, বনজ, সৌন্দর্যবর্ধক- সব মিলে তিন হাজারের উপরে গাছ আছে। এক অর্কিডের জাতই আছে একশর উপরে। বনজের ৩০/৪০টা জাত আছে। ফলজের আছে কয়েক শত গাছ।
দীপক জানালেন, এই ব্যবসায় মূলধন লাগে অনেক বেশি, সেই তুলনায় বিক্রি কম। নার্সারিতে শ্রমিকের খরচ অনেক বেশি। পৃথিরীর বিভিন্ন দেশের মতো আমাদের দেশেও সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চারা গাছের মার্কেট গড়ে ওঠা দরকার বলে মনে করেন দীপক।
