বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই পরিবাহিত হয় শিপিং ইন্ডাস্ট্রি দ্বারা। বিশ্ব অর্থনীতিতে বার্ষিক আয়ের প্রায় ২০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার আসে ৫০,০০০ মার্চেন্ট শিপ থেকে। বর্তমানে ১৫০টিরও বেশি দেশের ওয়ার্ল্ড ফিড নিবন্ধিত প্রায় তের লাখ সিফেরারস সারা বিশ্বে শিপিংয়ে কর্তব্যরত, যার বেশিরভাগ সিনিয়র কর্মকর্তাই উন্নত দেশগুলোর। তবে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে কর্মকর্তা এবং বেশিরভাগ রেটিং তাদের যারা বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান আন্তর্জাতিক জাহাজ শিল্পে ১ লাখ মেরিন কর্মকর্তা ও ৫ লাখ নাবিকের তীব্র সংকট রয়েছে। এ সুযোগ নিতে হলে এখন থেকে প্রতি বছর কমপক্ষে ৮০০ থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার মেরিন অফিসার তৈরি করা দরকার। আমাদের পাশের দেশ ভারত ২০০৯ সনে ৮৭,০০০ এবং চীন ২০০৯ সনে ১,৫৫,০০০ উপরে মেরিন অফিসার ও নাবিক তৈরি করেছে। বর্তমানে আমাদের দেশেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীই এটাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে স্বাচ্ছন্দে। আসুন জেনে নেই এ পেশা সম্পর্কে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো।
নাবিক জীবন কেন বেছে নেবেন
আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক :সারা বিশ্বে বিভিন্ন পেশা অপেক্ষা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত শিপ কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে বেশি পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। নাবিক পেশায় বাইরে কর্মরত অবস্থায় খুব কমই ব্যয় হয়। কারণ তাদের বাসস্থান, ভ্রমণ এবং খাদ্যের যোগান নিয়োগদাতাই দিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও নাবিকদের বেতনমূল্য সম্পূর্ণ ট্যাক্স ফ্রি হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত ব্যয় নেই বললেই চলে। মান, দেশ ও জাহাজ কোম্পানি অনুযায়ী বেতন কম বেশি হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে ভ্রমণের সুযোগ :নিয়মিত বাণিজ্য জাহাজে থাকা ছাড়াও অবকাশ যাপনে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরেও অনেক জাহাজেরই বিশ্বের যেকোনো স্থানেই যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। বিশ্বের সর্বত্রই ভ্রমণের অপরিসীম সুযোগ, সুব্যবস্থা রয়েছে।
প্রত্যাশিত দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যত :
আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোতে প্রচুর দক্ষ ও যোগ্য শিপ কর্মকর্তার প্রয়োজন। অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা অবসরে যাচ্ছেন। এতে বৃহত্ পরিসরে নাবিকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সৈকত ব্যবস্থাপনা পেশাতেও নৌ অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেগুলেতেও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই এখন আর নাবিক পেশা মানেই সারা জীবন সমুদ্রেই কাটিয়ে দেয়াকে বুঝায় না।
প্রয়োজনীয় একটি পেশা :বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে পেশার গুরুত্ব বুঝে উঠা কঠিন। সে ক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই পরিবাহিত হয় শিপিং ইন্ডাস্ট্রির দ্বারা। তাই এটিকে বিশ্ব অর্থনীতির চালিকা শক্তি ধরা হয়। শিপিংব্যতীত বিপুল পরিমাণ খাদ্য, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য বিশ্বের এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পরিবহন করা একেবারেই অসম্ভব। অন্যান্য বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থা অপেক্ষা শিপিংই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও পরিবেশ বান্ধব। যেহেতু একটি বিশ্ব বাণিজ্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে তাই সমুদ্রে কর্মরতদের কাছে এটি অত্যন্ত তৃপ্তিকর যে তারা একটি প্রয়োজনীয় পেশায় নিয়োজিত।
যোগাযোগ :ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি, ২৯/১, কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ০১৯৭১০০৯৯৯৯।
