আইটি হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২০:৫৯
তথ্যপ্রযুক্তি এখন শুধুমাত্র উন্নত বিশ্বের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়, সারাবিশ্বই এখন প্রযুক্তিতে ঝুঁকে পড়েছে। কেবল তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমেই এগিয়ে যাচ্ছে অনেক দেশ। তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত হতে প্রয়োজন একটি শক্তিশালি তথ্যপ্রযুক্তি খাত। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তিতে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে বিশাল ভূমিকা পালন করছেন এদেশের তরুণ আইটি প্রফেশনালরা। দেশের বৃহত্ তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল কার্যক্রম একটা সময় শুধুমাত্র ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল। পরে তারা অন্যান্য বড় বিভাগীয় শহরে একটু একটু করে তাদের কার্যক্রম প্রসারিত করে, যা এখন গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে দেখা যাচ্ছে। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বাজার প্রতিনিয়তই ক্রমবর্ধমান হওয়ায় এখানে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের একদল পরিশ্রমী ও মেধাবী কর্মীবাহিনী এই ইন্ডাস্ট্রির যাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক, বীমা, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মতো করে ক্যারিয়ার গড়ার একটি পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে একটু একটু করে পরিণত হচ্ছে আইটি ইন্ডাস্ট্রি, বিশেষ করে আইটি হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি। আইটি ক্ষেত্রে চাকরির পেশাদারিত্ব, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যত্ নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাক-এর ক্যারিয়ার পাতার পাঠকদের জন্য মুখোমুখি হয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি হার্ডওয়্যার পণ্য পরিবেশক প্রতিষ্ঠান স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান একেএম শফিক-উল-হক। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন মাহফুজুর রহমান মুকুল। তথ্যপ্রযুক্তিখাতে বিশেষ করে হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে ক্যারিয়ার কতটা সম্ভাবনাময়? বর্তমানে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত ক্রমবর্ধমানহারে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে কম্পিউটার ও কম্পিউটার সামগ্রীর ব্যবহার বেড়ে চলেছে খুবই দ্রুত গতিতে। বাংলাদেশে বর্তমানে বড় আকারের কম্পিউটার পণ্য পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানে কাজের পরিধি। দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি দেশে এখন স্যামসাং, হিউলেট প্যাকার্ড, ডেল, মাইক্রোসফট, ইন্টেলের মতো বিশ্বখ্যাত আইটি কোম্পানিগুলোও নিজেদের অফিস স্থাপন করেছে। ফলে এখানে কাজের অনেক সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। আশার বিষয় হলো, এসব দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের অন্যান্য যেকোনো সেক্টরের চেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। আপনাদের প্রতিষ্ঠানে মূলত কোন কোন বিভাগে বেশি কর্মী কাজ করে থাকে? আমাদের প্রতিষ্ঠানে মূলত সেলস, প্রোডাক্ট মার্কেটিং, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কাস্টমার সার্ভিস—এই চার বিভাগেই সবচেয়ে বেশি কর্মী কাজ করে থাকে। তাছাড়াও রয়েছে অ্যাকাউন্টস বিভাগ, এইচআর বিভাগ, স্টোর বিভাগ। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সেলসের মধ্যে রয়েছে তিন ভাগ—ডিস্ট্রিবিউশন সেলস, কর্পোরেট সেলস এবং টেন্ডার সেলস। সেলস-এর তিনটি বিভাগই আলাদাভাবে এখানে কাজ করে থাকে। আপনাদের প্রতিষ্ঠানে চাকুরীর ক্ষেত্রে তরুণদের কী ধরনের যোগ্যতাকে আপনারা প্রাধান্য দিয়ে থাকেন? সেলস অথবা প্রোডাক্ট মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের জন্য একদম শিক্ষানবিশ পর্যায়ে আমরা ন্যূনতম স্নাতক উত্তীর্ণ হলেই আবেদনের সুযোগ দিয়ে থাকি। তবে অবশ্যই বিবিএ এবং এমবিএ করা থাকলে কিছুটা অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। পাশাপাশি আবেদনকারীদের কমিউনিকেশন স্কিল এবং আইটি স্কিলের উপর আমরা জোর দিয়ে থাকি। অন্যদিকে সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টে নতুন পর্যায়ে আমরা কম্পিউটার সায়েন্সের উপর বিএসসি অথবা এমএসসি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। তবে একদম জুনিয়র পর্যায়ে ৪ বছরের ডিপ্লোমা হোল্ডারদেরও সুযোগ দিয়ে থাকি। বর্তমানে দেশের আইটি হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি আছে বলে আপনি মনে করেন কি? সত্যি কথা বলতে আমরা যখন কোন চাকরির বিজ্ঞাপন দেই, তখন অনেক আবেদনকারী আবেদন করে থাকে। তবে আমাদের কাছে মনে হয় এখানে আসলেই দক্ষ জনশক্তির যথেষ্ঠ অভাব এখনো রয়ে গেছে।