মিয়ানমারে দুর্ঘটনাকবলিত বিমানের আহত পাইলটসহ ১০ জন শুক্রবার রাতে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে দুজন পাইলট, দুই কেবিন ক্রু, দুই গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার এবং চারজন যাত্রী রয়েছেন। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকায় আসেন। ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এ সময় আহতদের খুবই বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। দুর্ঘটনার আতঙ্ক এখনো কাটেনি। আহতদের উদ্বিগ্ন স্বজনরাও বিমান বন্দরে উপস্থিত ছিলেন। বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী মাহবুব আলী ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক ফ্লাইটটি না আসা পর্যন্ত বিমান বন্দরে অপেক্ষমাণ ছিলেন।
এর আগে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জানিয়েছেন, বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঐ ১০ জন যাত্রী ইয়াঙ্গুন থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৯টায় ঐ ফ্লাইটটি ঢাকার পথে রওনা দেয়। শুক্রবার বিকাল ৪টায় ঢাকা থেকে বিশেষ ফ্লাইটটি মিয়ানমার যায়। চিকিত্সকদের পরামর্শ ও মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।
শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশ বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ জানান, আহতদের ফিরিয়ে আনতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যাদের মিয়ানমারের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে না তাদের এ মুহূর্তে আনা হচ্ছে না। যারা এসেছেন তারা চাইলে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা নিতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে ইয়াঙ্গুন বিমান বন্দরে অবতরণের সময় বৈরী আবহাওয়ার কারণে রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিমানের একটি ফ্লাইট। বিমানটিতে শিশুসহ ২৯ যাত্রী, দুজন পাইলট, দুজন কেবিন ক্রু ও দুজন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। আহত ১৯ জনকে সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের কেউ প্রাথমিক চিকিত্সা নেন। দুর্ঘটনার পর মিয়ানমারে আটকে পড়া ঢাকাগামী যাত্রীদের বহন করতে গত বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চিফ অব ফ্লাইট সেফটি ক্যাপ্টেন শোয়েব চৌধুরীর নেতৃত্বে অপর একটি ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ছেড়ে যায়। সেই ফ্লাইট মিয়ানমার থেকে ১৭ জন যাত্রী নিয়ে গত বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল বিমান বন্দরে অবতরণ করে। এই ১৭ জন অপেক্ষমাণ ফিরতি যাত্রী ছিলেন।
সাত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল
এদিকে দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলে বিপর্যয় নেমে আসে। এয়ারক্র্যাফট সংকটে ৭টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। আগামী ১৩ মের আগে সিডিউল বিপর্যয় কাটবে না। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি কোম্পানির কাছ থেকে ছয় বছরের জন্য দুটি বোয়িং ৭৩৭ এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়া হচ্ছে। বিমানের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলেন, এর একটি শুক্রবারই বিমানবহরে যুক্ত হওয়ার কথা। ১০ জুন হবে আরেকটি। এ দুটি উড়োজাহাজ দিয়ে সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সৈয়দপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও যশোরে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থাটির বহরে ১৩টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০, চারটি ৭৩৭-৮০০ ও তিনটি ড্যাশ-৮। এর মধ্যে একটি বোয়িং ৭৩৭ এয়ারক্র্যাফট মেরামতের জন্য গ্রাউন্ডেড রয়েছে। একটি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় পতিত।
