চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি- নারী সেল ও সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম। তারা বলেছেন, নারী ও শিশু নির্যাতন এত ভয়াবহ মাত্রায় রূপ নেওয়ার অন্যতম কারণ বিচার না হওয়া। এমন নৃশংস বর্বরতা জড়িত সকল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। যদি এসব ঘটনার বিচার হতো তাহলে ধর্ষকরা ভয় পেতো এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতো। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ৬ মে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের স্বর্ণলতা পরিবহনের চলন্ত বাসে ইবনে সিনা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। শুধু কিশোরগঞ্জের বাসে এই বর্বরতা নয়, সারাদেশেই নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যা বেড়েই চলেছে। মে মাসের প্রথম আটদিনে ৪১ শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ১৮৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার যার মধ্যে ১৫ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন এতো ভয়াবহ মাত্রায় রূপ নেওয়ার অন্যতম কারণ বিচার না হওয়া। চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর কলেজছাত্রী রূপা হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য একবছরেরও বেশি সময় আগে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়েছে। তিন বছর হয়ে গেছে তনু হত্যা মামলার চার্জশিট হয়নি। ঝুলে আছে রিশা হত্যা মামলাও। যে মামলাগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে তার মাত্র ৩ শতাংশের সাজা হয়েছে। বক্তারা নারী ও শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জলি তালুকদার, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শম্পা বসু, কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লুনা নুর, কমিউনিস্ট পার্টির মহিলা ফোরামের নেত্রী সুলতানা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
