শফিকুল ইসলাম। বয়স ষাটের ওপরে। বাসা রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায়। এলাকায় তিনি পরিচিত একজন মুহুরী হিসেবে। তবে ৫৫ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার হবার পর জানা গেল তিনি বড়সড় মাদক ব্যবসায়ীও। মুহুরীর খোলসটা ব্যবহার করেন মানুষকে বোকা বানানোর জন্য। কিন্তু মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেল, ভয়াবহ ‘জাল’ ব্যবসার সঙ্গেও তিনি জড়িত। এই কাজে তার বড় একটি চক্র আছে। সেই চক্রের দুই নারীসহ ৯ সদস্যই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে।
জানা গেছে, জাল জিনিসপত্র বানানোর ব্যাপারে ভালোমতোই হাত পাকিয়েছে এই চক্র। স্মার্টকার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) রুট পারমিট, গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেনসহ মোটরযানের অন্যান্য প্রয়োজনীয় জাল কাগজপত্র নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করে এই চক্র। শফিকুল এই দলের সমন্বয়কারী। এরা গত ১০ বছরে বিক্রি করেছে লক্ষাধিক জাল লাইসেন্স ও ডিজিটাল সনদ। পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে মোটরযানের বিপুল সংখ্যক জাল রুট পারমিট ফরম, রুট পারমিট সার্টিফিকেট, রেজিস্ট্রেশন সনদ, ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন ফরম, বীমা ফরম, বীমা স্ট্যাম্প স্টিকার, ডকুমেন্ট প্রাপ্তি রশিদ, রেজিস্ট্রেশন আবেদন ফরম, বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও অফিসের ১৫০টি সিল এবং গাড়ির ডিজিটাল নম্বর প্লেট। এসব জিনিস জাল করার কাজে ব্যবহূত কম্পিউটার সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।
যেভাবে ধরা জাল সিন্ডিকেট:মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মশিউর রহমান বলেন, গোপন তথ্য ছিল মুহুরী পেশার আড়ালে শফিকুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। একমাস নজরদারির পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স চক্রের সাথে তার জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। একপর্যায়ে তার দেয়া তথ্যমতে গত ৫ মে রাজধানীর ধানমন্ডির ১৯ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে স্ত্রী ও শ্যালিকাসহ গ্রেফতার হয় ‘জাল চক্রের’ অন্যতম সদস্য মোস্তফা কামাল জয়। সেখান থেকেও উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ জাল সনদসহ অন্যান্য জিনিসপত্র। এদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে গত ৭ মে রাজধানীর কাফরুল এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় এই চক্রের আব্দুল খালেক, আনোয়ারুল হক শিমুল, আব্দুল জলিল, আব্দুল রহিম ও মোতালেব হোসেনকে।
মশিউর রহমান আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে, তারা ১০/১২ বছর ধরে মোটরযানের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জাল করে আসছে। গাড়ি ও চালকের ধরন/চাহিদা ভেদে তারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেট প্রস্তুত ও সরবরাহ করত। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা হতে গ্রাহক সংগ্রহ করে বিভিন্ন এডিটিং সফটওয়্যার দিয়ে নকল কাগজপত্র বানিয়ে নিজেরাই স্বাক্ষর করে গ্রাহকদের সরবরাহ করত। ফলে অদক্ষ ড্রাইভারও ‘লাইসেন্স’ পেয়ে যেত আর ত্রুটিযুক্ত যানবাহনও ‘ফিটনেস’ সনদ পেয়ে যেত এদের কল্যাণে।
