ইসির কাছে বিএনপির অভিযোগ

পুলিশ ও প্রশাসন সরকারি দলের পক্ষে কাজ করছে

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২২:৫৮
খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন সরকারি দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে সরকার এভাবে সরাসরি প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলেও নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যকরী ভূমিকা রাখছে না। নির্বাচন যেন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, সেজন্য কমিশনকে আরও শক্ত হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এসব অভিযোগ ও দাবি জানায়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। প্রতিনিধি দলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মো. সুজাউদ্দিন এবং সাবেক সচিব আব্দুল হাকিম ও মো. জবিউল্যাহ। বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে দেড় ঘণ্টার এই বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ, কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, জাবেদ আলী ও মো. শাহনেওয়াজ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ড. মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, কিছু বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে এবং কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাতে এসেছিলেন তারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও চারটি স্থানেই মন্ত্রী ও সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। সবগুলোতেই ১৮ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর সরকারি দলের লোকজন হামলা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা, সে ব্যাপারে কমিশনের কাছে বিএনপি তার শঙ্কার কথা জানিয়েছে। মঈন খান অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসনকে প্রভাবিত করে পক্ষপাতমূলক নির্বাচনের চেষ্টা হচ্ছে। বিরোধী জোট সমর্থক নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে থাকতে দেয়া হচ্ছে না। বরিশালে ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ও তার দেহরক্ষীর ওপর প্রশাসন থেকে যে আক্রমণ হয়েছে, তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থাকে। যারা গুলি করেছে তাদের একজনকেও এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি। খুলনায় সরকারি দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী স্থানীয় বস্তিবাসীদের মাঝে টাকা বিতরণ করছেন, সেখানে চরমপন্থীদের ভাড়া করা হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সিলেটে সরকারি দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী ‘সন্ত্রাসী’দের জড়ো করছেন বলেও আমাদের কাছে খবর রয়েছে। ড. মঈন বলেন, আমরা কমিশনকে এ বিষয়গুলো অবহিত করেছি। শক্ত হাতে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বলেছি ইসিকে। প্রয়োজন হলে অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও করেছি আমরা। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সংবিধান অনুযারী ইসি সরকারের কাছে যা চাইবে তা সরকার দিতে বাধ্য। তিনি বলেন, চারটি সিটি নির্বাচন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এটি এখন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান সাংবাদিকদের আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন চাইলেই নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন করতে পারবে না। কারণ সরকার দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা প্রশাসনে এমনভাবে দলীয়করণ করেছে যে, তাতে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি যে- নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা।