সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মহাজোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরন গত বুধবার রাতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের কর্মীর উপর পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনাকে একটি সাজানো নাটক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি প্রয়োজনে ১৮ দলীয় জোটের সমর্থিত মেয়র প্রার্থী কামালের নিরাপত্তাদানের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় অশ্বিনী কুমার টাউন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে হিরন সংঘটিত উক্ত ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে এই ঘটনার সাথে তাকে জড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিতে প্রতিপক্ষ প্রার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা যাবে না মর্মে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ আনারস প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনে নিজের নিশ্চিত পরাজয় জেনে তাকে ব্যক্তিগতভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য নানান অপ-প্রচারমূলক প্রচারপত্র বিতরণ করছেন। যা আচরণ বিধির লংঘন। বুধবার রাতে ঘটনা সম্পর্কে হিরন তার মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঐ রাতে বৈদ্যপাড়া এলাকায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক প্রচারপত্র বিলিকালে মহিলা দলের নারী প্রচারকর্মীরা নাগরিকদের প্রতিবাদের মুখে পড়েন। এ খবরে ভ্রাম্যমাণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আপত্তিকর ও আচরণবিধি লংঘনকারী প্রচারপত্রসহ ৬ নারী কর্মীকে আটক করেন। আদালত এ কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হলে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কথিত ব্যক্তিগত দেহরক্ষি হারুনের নেতৃত্বে পুরুষ কর্মীরা আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে প্রথমে জেলা বিএনপি’র সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ও পরে আহসান হাবিব কামাল ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের এই উপস্থিতি বিএনপি’র প্রচারকর্মীদের উত্সাহিত করে এবং পুলিশের কাছ থেকে আটককৃতদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। তখন বাধ্য হয়ে পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আটকদের থানায় নিয়ে যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বুধবার রাতের ঘটনার সময় সেখানে তার কোনো কর্মীই উপস্থিত ছিলো না। নির্বাচন কমিশন গঠিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনেই সম্পূর্ণ ঘটনা ঘটেছে এবং এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য রাতেই তার প্রতিপক্ষ প্রার্থী বিভিন্ন গণমাধ্যমে নানা অসত্য বক্তব্য বলে তার মানহানি ঘটিয়েছেন। হিরন তার প্রতিদ্বন্দ্বীর এ অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে বরিশাল নগরীকে একটি আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে তার টেলিভিশন প্রতীকে ভোট প্রদানের জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
