বাংলা প্রথমপত্র
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
সিনিয়র বাংলা শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ,ঢাকা
অধ্যায় :‘পড়ে পাওয়া’
প্রশ্ন:১
আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকানির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। সহসা গাড়ির ভেতরে দৃষ্টি পড়তে সে দেখতে পেল একটি মানিব্যাগ পড়ে আছে সিটের ওপর। ব্যাগে অনেকগুলো ডলার। কিন্তু ব্যাগে কোনো ঠিকানা পাওয়া গেল না। সে সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করল। নিরুপায় হয়ে সে পত্রিকার অফিসে গিয়ে সম্পাদককে একটি বিজ্ঞপ্তি ছাপিয়ে দেবার অনুরোধ জানায়।
ক) ‘পড়ে পাওয়া’ কী ধরনের রচনা ?
খ) ‘ওর মতো কত লোক আসবে’— বিধুর কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
গ) উদ্দীপকের আরিফকে কোন যুক্তিতে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়? বুঝিয়ে লেখো।
ঘ) ‘কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি ‘পড়ে পাওয়া’—গল্পের মূলসুরকেই ধারণ করে আছে—মূল্যায়ন করো।
১ নং প্রশ্নের উত্তর:
ক) ‘পড়ে পাওয়া’ একটি কিশোর গল্প।
খ) ‘ওর মতো কত লোক আসবে’— বিধুর কথাটির অর্থ, মিথ্যে মালিক সেজে অনেকেই টিনের ক্যাশ বাক্সের লোভে আসতে পারে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোররা একটি টিনের ক্যাশ বাক্স কুড়িয়ে পেয়ে তা মালিককে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করে পোস্টার ‘ওর মতো কত লোক আসবে’— বিধুর কথাটির অর্থ লাগায়। টিনের সেই ক্যাশ বাক্স পাওয়ার লোভে প্রথম দিনই ভুয়া একজন মিথ্যা মালিক সেজে হাজির হয় । তাকে বেশ প্রমাণের সামনে হাজির হতে হয় এবং সে যথাযথ প্রমাণ দিতে অপারগ হয়। লোভী এ ভূয়া মালিকের সম্পর্ক নির্ধারণ করতে গিয়ে বিধু উক্ত উক্তিটি করে।
গ) উদ্দীপকের আরিফকে নৈতিক মানসিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
উদ্দীপকের আরিফ একজন সাধারণ মানুষ হয়েও পরের জিনিসের প্রতি কোনো প্রকারের লোভ দেখায়নি যার ফলে এখানে তার সততা ও নির্লোভ মনের পরিচয় আমরা পেয়ে যাই। পড়ে পাওয়া গল্পে বিধুর সততাও উদ্দীপকের আরিফের অনুরূপ।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বিধু ও তার বন্ধুরা উভয়ই পড়ে পাওয়া জিনিসে প্রতি লোভ দেখায় নি যা উদ্দীপকের আরিফের মাঝে আমরা লক্ষ করি। দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েই তাদের উভয়ের চরিত্রে সততার বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে; যাকে আমরা নৈতিকতার একটি উত্কৃষ্ট আদর্শ ধরতে পারি। উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের মালিককে খুঁজে বের করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে কিন্তু সেকোনো ঠিকানা জোগাড় করতে পারেনি তাড়াতাড়ি সে নিরূপায় হয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে গিয়েছে ঠিক বিধুও তার বন্ধুদের মাঝে আমরা এমন একটি প্রয়াস লক্ষ করি।তারা অনেক চেষ্টার পর পড়ে পাওয়া টিনের ক্যাশ বাক্সটিও মালিককে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের দিক থেকেই উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের নৈতিক মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করা চলে।
ঘ) ‘কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের মূলসুরকেই ধারণ করে আছে কারণ গল্পের বিধু যেমন নির্লোভ মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে উদ্দীপকের আরিফও সেই পরিচয় দিয়েছে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে কিশোর বিধু ও তার বন্ধুরা নির্লোভ মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে টিনের বাক্সটি পড়ে পাওয়ার পর তার মালিককে ফেরত দিয়ে। এই দুরন্ত কিশোরেরা নিজের লোভ যেমন সংবরণ করেছে উদ্দীপকের আরিফও পাওয়া ডলার ফেরত দেওয়ার প্রচেষ্টায় একই মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে।
‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশোরদের মতোই উদ্দীপকের টেক্সি ক্যাব চালক আরিফ হঠাত্ অন্যের একটি মানিব্যাগ তার গাড়ির সিটে পড়ে থাকতে দেখতে পায় । তার গাড়িতে একজন আরোহীর ভুল করে রেখে যাওয়া মানিব্যাগটি সঠিকভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার ইচ্ছায় পত্রিকা অফিসে ছুটে আসে। এই মনোভাব পড়ে পাওয়া গল্পেরই সারাংশ বটে।
অপরের জিনিসের প্রতি মানুষের লোভ না করে কোনো জিনিস পেলে তা ফেরত দেওয়াটাই মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। পড়ে পাওয়া গল্পে আমরা সেই একই ধরণের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দুরন্ত কিশোরদের মাঝে দেখতে পাই। অন্যদিকে উদ্দীপকটির কলেবর স্বাভাবিকভাবেই গল্পের তুলনায় ক্ষুদ্র। তবে এরও মূলসুর গল্পের অনুরূপ। আর তা হলো অন্যের সম্পদ আত্মগত না করে তা যথাযথভাবে মালিকের কাছে পৌঁছানোটাই ন্যায় সংগত। এ কারণেই আরিফ মানিব্যাগের মালিককে খুঁজে পেতে আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কলেবর ক্ষুদ্র হলেও তার গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করেছে।
