আমার লেখা

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ১৯:৪৭
সংবাদপত্র পাঠের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে ছোট বোনের কাছে একটি চিঠি লিখ। পরীক্ষার উপযোগী নিচের পত্রটি তৈরি করে পাঠিয়েছে ঢাকা ক্যান্ট: গার্লস পাবলিক স্কুল ও কলেজ ঢাকা সেনানিবাস’র দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নূসরাত আশকোনা,ঢাকা। ১৫.০৬.২০১৩ স্নেহের লাব্বি আমার অনেক স্নেহ ও ভালোবাসা নিও। আশা করি তুমি ভালো আছ। সেদিন তোমার একটি চিঠি পেয়েছি। সেখানে তোমার পড়াশুনার ব্যস্ততার কথাই ফুটে উঠেছে। তুমি নাকি দৈনিক সংবাদপত্র গুলোতেও ভালো চোখ বুলাতে পারছ না। ব্যাপারটা সত্যি না কথার কথা তা জানি না। তবে যদি সত্যি হয়, তবে সেটা খুবই দুঃখের এবং খারাপ। কারণ, তোমার মনে আছে যে ছোট বয়স থেকেই তোমাকে সংবাদপত্র পাঠে আমি উত্সাহিত করে আসছি। সংবাদপত্র পাঠ করা শিক্ষার একটি অঙ্গ। শিক্ষাই হচ্ছে জাতির মেরুদন্ড। প্রতিদিন পৃথিবীর খবরাখবর প্রকাশ করেই সংবাদপত্র শুধু এর দায়িত্ব শেষ করে না, বরং মানুষের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে সংবাদপত্রসমূহ তাদের কলরব বৃদ্ধি করে চলছে। এ যুগের শিক্ষা এ সভ্যতা সংবাদপত্র পাঠ ছাড়া অপূর্ণ থেকে যায়। বিশ্বের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, বাণিজ্য, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলা. আমোদ-প্রমোদ, ছাত্রদের পাঠ্যপুস্তকের আলোচনা, স্বাধীন মত ব্যক্ত করার সুযোগ-আজকাল সবই আছে সংবাদপত্রে। পৃথিবীর দুস্থ মানুষ যেখানে প্রতিকারহীন শক্তির দাপটে অশ্রুবর্ষণ করে, সংবাদপত্র সেখানে তার নির্ভীক বাণী প্রকাশ করে। চলমান বিশ্বের নিত্যতার সাথে সম্পর্কীত না হলে ইতিহাস, দর্শন সবই যেন অচল হয়ে পড়ে। কারণ, পৃথিবী একস্থানে দাঁড়িয়ে নেই। সে প্রতিনিয়ত স্থান পরিবর্তন করে এগিয়ে চলছে, অপর পক্ষে আমাদের পাঠ্যপুস্তকসমূহ কমপক্ষে একটি বা দু’টি বছরের জন্য সামাজিক বিষয়ে স্থির হয়ে আছে। পাঠ্যপুস্তকের অধীন জ্ঞানকে বদ্ধ পুকুর থেকে তুলে এনে সংবাদপত্রের চলমান জ্ঞানের ধারায় মিশিয়ে না দিতে পারলে সে-শিক্ষা গতি পাবে না। তোমার কাছে আমার অনুরোধ রইল সময় করে নিয়ে প্রতিদিন অবশ্যই তুমি সংবাদপত্রে একবার চোখ বুলিয়ে নিবে। শিক্ষার অন্যান্য বিষয়ের সাথে সংবাদপত্রেরও একটা স্থান করে নিবে। এতে বরং তোমার ক্ষতির চেয়ে উপকারই হবে বেশি। আশা করি আমার কথা গুলো তুমি স্মরণ রাখার চেষ্টা করবে এবং পালন করতে উদ্বুদ্ধ হবে। পরিশেষে তোমাকে জানাতে চাই, খোদার কৃপায় আমরা বাড়ির সকলেই ভালো আছি। বাড়ির জন্য কোনো দুশ্চিন্তা করো না। নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নিবে এবং লেখা পড়ার প্রতি মনোযোগী হবে। এই বলে আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। ইতি তোমার বড় বোন নূসরাত