সরোয়ারের অগ্নিপরীক্ষা আজ

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২২:৪৯
বিএনপির কেন্দ্রভাগে বিভক্ত বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এখানকার মেয়র প্রার্থী হিসেবে আহসান হাবিব কামালের নাম চূড়ান্ত করেন। নির্বাচনের পুরো দায়িত্ব দেয়া হয় মজিবর রহমান সরোয়ারকে। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী এবায়দুল হক চানকে জেলা বিএনপির সভাপতির পদটিও ছেড়ে দেন আহসান হাবিব কামাল। মজিবর রহমান সরোয়ারকে নেতা মেনে নিয়েই আহসান হাবিব কামাল ভোটের মাঠে নামেন। নির্বাচনী প্রস্তুতির শুরুতেই এক যুগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মুখোমুখি হওয়া সরোয়ার ও কামালের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সরোয়ার এক যুগের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কথা ভুলে আহসান হাবিব কামালের পক্ষে আদৌ আন্তরিকভাবে কাজ করবেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। পরবর্তীতে এবায়দুল হক চানের মনোনয়ন প্রত্যাহার ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বরিশাল সফরকালে সরোয়ারকে আন্তরিকভাবেই আহসান হাবিব কামালের পক্ষে মাঠে দেখা গেছে। দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন ঐক্যবদ্ধ। প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতারা বরিশাল ছাড়েন। এরপরই বিএনপির বহুভাগে বিভক্ত নেতাদের মধ্যে নানামুখী রহস্যজনক আচরণ শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার দলীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিলো সাংবাদিক সম্মেলন। সেখানে মজিবর রহমান সরোয়ার আসেননি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে এবায়দুল হক চান অগোছালো কথাবার্তা শুরু করেন। বসার স্থান নিয়ে বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হন বাকেরগঞ্জের সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি বিলকিস জাহান শিরিন। দুজনের পক্ষ নিয়ে নেতাদের মধ্যে বচসা শুরু হলে কৃষক দল সভাপতি হাজী আলতাফ হোসেন এসে শিরিনের পক্ষাবলম্বন করেন। দলীয় কার্যালয়ে এরকম বেসামাল অবস্থার মাঝে প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল ছিলেন একেবারেই নীরব। তিনি শুরুতে তার নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন মজিবর রহমান নান্টুকে। পরবর্তীতে এক সময়ের যুবদল নেতা আতাহারুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল কৌশলে মজিবর রহমান সরোয়ারকে নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগের জন্য আহসান হাবিব কামালের স্বাক্ষর নিয়ে আসেন। মজিবর রহমান সরোয়ারকে নির্বাচনী এজেন্ট মনোনীত করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে কামালের আবেদন পৌঁছে দেয়া হয়। রিটার্নিং অফিসার ঐ আবেদন গ্রহণ করেননি। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে এজেন্ট থাকতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন রিটার্নিং অফিসার। পরবর্তীতে মজিবর রহমান নান্টুকে পুনরায় নির্বাচনী এজেন্ট না করে পুরনো বিদ্রোহী প্রার্থী এবায়দুল হক চানকে মনোনীত করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেয়া হয়। অথচ চানের প্রার্থী হওয়ার আগে এবং পরের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অনেক নেতাকর্মীর মাঝেই। অধিকাংশ বিএনপি নেতাকর্মী নির্বাচনী এজেন্ট নিয়ে এ ধরনের কৌশলী ভূমিকাকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আহসান হাবিব কামালের জয়-পরাজয়ের ভার পড়বে মজিবর রহমান সরোয়ারের ওপর। বিএনপির কেন্দ্র। নানান সমীকরণে বর্তমানে বিএনপির পুরো রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এখন এককভাবে মজিবর রহমান সরোয়ারের হাতে। তাই তাদের সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মজিবর রহমান সরোয়ারকেই। প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের দায়ভার তাকেই নিতে হবে। তাই আজ শনিবার সরোয়ারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষার দিন। কামাল বিজয়ী হলে কেন্দ্রের কাছে সরোয়ার পুরস্কৃত হবেন। পরাজিত হলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে বলে কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন। র্যাবের অভিযান অব্যাহত, টাকাসহ কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী গ্রেফতার শুক্রবার রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে র্যাবের অভিযান অব্যাহত ছিলো। ৪ বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের পর সন্ধ্যায় ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী কামাল হোসেন ওরফে ফাঁসি কামালের কর্মী মনিরকে ২৫ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। র্যাব জানায়, ঐ টাকা ভোটারদের মাঝে বিতরণকালে র্যাব মনিরকে হাতেনাতে আটক করে। নগরীর বস্তি ও বর্ধিত এলাকায় বিভিন্ন প্রার্থী টাকা বিতরণ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল সাংবাদিক সম্মেলন করে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেট সংখ্যা কমিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলো অরক্ষিত করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে ভোট কেন্দ্র দখলের সুযোগ করে দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।