জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৩, ১৯:৩১
মানব ধর্ম অংশ :১ আমি কারে কিবা বলি ওরে/দিশে না মেলে।/লোকে বলে লালন ফকির /কোন জাতের ছেলে\/ছেদদন্ড জড়ায়ে ধরে/এক একেশ্বর সৃষ্টি করে।/আগাম-নিগম চরাচরে/তাইতে জাত ভিন্ন বলে\/জগত জুড়ে জাতের প্রমাণ/হিন্দু, যবন, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান।/তাতে কি হয় জাতের প্রমাণ /শাস্ত্র খুঁজিলে? অংশ :২ সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে।/লালন কয়, জাতের কী রূপ, দেখলাম না এ নজরে।।/কেউ মালা, কেউ তসিব গলায়,/তাইতে কী জাত ভিন্ন বলায়,/যাওয়া কিংবা আসার বেলায়/জাতের চিহ্ন রয় কার রে ...লালন সে জাতের ফাতা/বিকিয়েছে সাত বাজারে।। ক) লালন শাহ কী জাতীয় কবি? খ) ‘যাওয়া কিংবা আসার বেলায়/জাতের চিহ্ন রয় কার রে’—কথাটি ব্যাখ্যা করো। গ) অংশ ১ এর সাথে অংশ ২ এর জাত শব্দটির সম্পর্কগত সাদৃশ্য তুলে ধরো। ঘ) উদ্দীপক দুটিতে লালন ফকির কীভাবে মানবধর্মের জয়গান করেছেন—বিশ্লে¬ষণ করো। উত্তর : ক; লালন শাহ মরমি জাতীয় কবি। উত্তর : খ; কথাটি দ্বারা জন্ম ও মৃত্যুর সময় কারও জাত থাকে না প্রসঙ্গে আলোচিত হয়েছে। মানুষ জন্মেই কোনো জাত-পাত গ্রহণ করে না। সে সমাজ বা মানব প্রচলিত ধর্ম দ্বারা বিশেষ ভাবে পরিচিত লাভ করে। কিন্তু জন্মের সময় যেমন কোনো জাতের চিহ্ন থাকে না তেমনি মৃত্যুর সময়েও মানুষের কোনো জাতের পরিচয় থাকে না। তাই কবি যাওয়ার কিংবা আসার বেলায় জাতের চিহ্ন কারও থাক না বলে মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। উত্তর :গ; অংশ ১ এর সাথে অংশ ২ এর জাত শব্দটির সম্পর্কগত সাদৃশ্য হলো মানুষ হিসেবে ‘জাত; শব্দটি মানবধর্মের বিপক্ষের অবস্থান। জাত বিদ্বেষ মোটেও ভালো না। লালন ফকিরকে যখন কেউ জিজ্ঞাসা করতো তিনি কোন জাতের বা কোন ধর্মের তিনি তাদের বলতেন তিনি মানবধর্মের। সকল মানুষ ই সমান। জাতপাত মানুষের তৈরি। মানুষ তার ব্যক্তিগত ক্ষমতা বাড়ানোর জন্যে জাতপাতের অহংকার করে তাকে। কিন্তু সমাজ জীবনে এই জাত পাতের সম্পর্ক মোটেও মানবিকতাতে তুলে আনতে পারে না বরং সকল বিষয়ের মধ্যে এই জাত শব্দটি প্রবেশ করে গোলমাল তৈরি করেছে। যাবতীয় অশান্তির এই কারণ হলো জাতের অহংকার করা। উদ্দীপক১ এবং উদ্দীপক ২ তে আমরা দেখতে পাই এই জাত প্রথা ভিত্তিহীন। লালন কোন জাতের ছেলে সেটা বড় কথা নয়। মানুষ জন্ম মৃত্যুর কালে কোনো জাতের থাকে না মানুষ শুধু মিথ্যে ক্ষমতার জন্যেই জাতের অহংকার দেখাই। উত্তর : ঘ; উদ্দীপক দুটিতে লালন ফকির মানবধর্মের জয়গান করেছেন—জাতি বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে মানুষকে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। লালন ফকির বলেছেন মানুষ মিছেই ধর্মে দোহায় দিয়ে নিজেদের মধ্যে জাত পাতের বিভেদ তৈরি করে। মানুষ যেমন জন্মের সময় কোনো জাতের থাকে না আবার মৃত্যুর সময়ও তেমন কোনো জাাতের থাকে না। কিন্তু দুনিয়াদারিকেত্ব সকলে একটি বিশেষ ধর্ম মেনে চলে এবং অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে নিজেদের মাঝেই গোলমাল সৃষ্টি করে যার ফলে সমাজজীবনে নেমে আসে এক প্রকার অশান্তি। শুধু শুধু ধর্মের নামে গোড়ামি করে মানুষ হিসেবে মানুষকে ছোট করে দেখে কোনো ফায়দা লুটে নেওয়া যায় না এই মর্মে লালন ফকির আবারও বলেছেন প্রচলিত ধর্মের দোহায় বড় নয় মানুষের মাঝে সস্প্রীতি স্থাপনের মাঝেই মানুষের আসল পরিচয়। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। মানবধর্মই হলো বড় সত্য। উদ্দীপক অংশ দুটিতে আমরা মানুষের জয় গানকে প্রাধান্য পেতে দেখি। সেখানে প্রচলিত কোনো ধর্মের কথা না বলে লালন ফকির দেখাতে চেষ্টা করেছেন যে, মানুষের মূল ধর্মই হলো মানবধর্ম। কেউ মালা বা কেউ তসবি পরলেই সে অনেক কিছু হবে তা নয়। একজন ভালো ধর্মের মানুষ মানুষকে কখনো খারাপভাবে দেখে না। সে কখনো মানুষের ভেতরে কোনো জাত-পাত দেখে না। লালন ফকির বলেছেন ,মানুষের মাঝে আদর্শগতভাবে মানবিকতার এক দৃষ্টি স্থাপন করতে হবে তাহলে মানব সমাজে শাক্তির বাণী ছুঁয়ে যাবে।