লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরের মাছঘাট দখলকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজার এলাকায় আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারীসহ ১২ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়সহ ৫টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। আহতদের মধ্যে আটজনকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরবংশী ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে চান্দার খাল নামক স্থানে একটি মাছ ঘাট সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন হাওলাদারের দখলে ছিল। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনে আলতাফ হোসেন হাওলাদার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এতে ওই কমিটি বিলুপ্ত করে স্থানীয় ওসমান খাঁনকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ।
এরপর থেকে ওসমান খান ও আলতাফ হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে কয়েক দফা মারামারি এবং দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করা হয়। এর জেরে গত শুক্রবার দুপুরে ওসমান খানের লোকজন আলতাফ হোসেনের মাছের আড়ত দখল নিতে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়।
আরও পড়ুন: তৃতীয় স্বামীর সঙ্গে মধুচন্দ্রিমায় শ্রাবন্তী!
পরে আলতাফ হোসেন হাওলাদারের অনুসারীরা শনিবার সকালে আবারও খাসেরহাট বাজার এলাকায় ব্যাপারী বাড়ীর রুমা আক্তার, কবির মাঝি, আনোয়ার ডালী, দেলোয়ার ডালী ও হানিফ ডালীর বাড়ি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় হামলা করে ভাংচুর করে। এতে আহন হন নারীসহ ১২ জন।
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। দুই গ্রুপের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতে ও থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, রায়পুর উপজেলায় ছয়টি অবৈধ মাছঘাটে প্রায় ১০ হাজার জেলের কাছ থেকে খাজনার নামে প্রতিদিন চাঁদা আদায় করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯১ সালে মাছঘাট ইজারা প্রথা বাতিল করা হয়।
এরপর থেকে সেখানে চলছে অবৈধ চাঁদাবাজি। ঘাটে মাছ বিক্রি না করলে ওই নেতাদের লোকজন জেলেদের পেটায়। চরকাছিয়া পানিরঘাট, গোলগুইলা, বেড়ির মাথায়, মিয়ার হাট ও কানিবগারঘাটে জেলেরা যেকোনো পরিমাণ মাছ বিক্রি করলেই ছয় টাকা হারে চাঁদা দিতে বাধ্য হন।
ইত্তেফাক/অনি

