ইন্টেরিয়র

ছোট ফ্ল্যাট দেখতে বড়

আপডেট : ১৭ জুন ২০১৩, ২০:২৪
নিজের ঘরকে মনের মতো করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার প্রবণতা অতি আদিম এবং অকৃত্রিম। আপনার ছোট্ট ঘরটিকে দেখে যেন বড় মনে হয়, সেই ব্যবস্থার জন্যই এবার কিছু পরামর্শ। শহরাঞ্চলের ফ্ল্যাটভাড়া দিনদিন বাড়ার সাথে সাথে কমে যাচ্ছে ফ্ল্যাট সাইজ। যারা শহরাঞ্চলের ফ্ল্যাটবাড়িতে নতুন সংসার শুরু করছেন, তাদের প্রত্যেকেরই পড়তে হচ্ছে এই সমস্যায়। কীভাবে সাজাব নিজের বাসগৃহ এ ভাবনা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সুখে থাকার জন্য, সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার চেষ্টাতেই মানুষের নিত্যদিনের পরিশ্রম। একটা সময় ছিল যখন অধিকাংশ মানুষের মাথার ওপর ছিল নিশ্চিত একটা ছাদ। যারা কাজের প্রয়োজনে অন্য শহরে এসে ঠাঁই নিত, তাদেরই খুঁজতে হতো একটা অস্থায়ী ঠিকানা। মাথা গোঁজার জন্য ভাড়া করা একচিলতে ঘরটি যতই ছোট পরিসরের হোক, তার দেয়াল, বারান্দা, উঠোন একসময় হয়ে উঠত আপন। আর সেই আপন বাসগৃহ গৃহিণীর হাতের ছোঁয়ায় হয়ে উঠত অপরূপ। লোহার গেট পেরিয়ে দোতলা বাড়ি, সামনে একচিলতে বাগান। বৈঠকখানা পার হলে অন্দরমহল। সারি সারি সাদা রঙের বড় ঘর, লাল রঙের ঝকঝকে মেঝে, আকাশছোঁয়া ছাদ, উঠোনজুড়ে নিত্যদিনের ঘরোয়া কাজকর্ম। একসময় বাড়ি বললেই এমন একটা সুন্দর অন্দরের ছবি ভেসে উঠত চোখের সামনে। যেখানে সকালবেলা উঠোনজুড়ে উড়ত ভেজা শাড়ির আঁচল, শেষ দুপুরে মেয়েদের আড্ডা আর বিকেলবেলায় শিশুদের হট্টগোল। সন্ধ্যায় বৈঠকখানায় পুরুষদের গুরুগম্ভীর আলোচনা, চায়ের জন্য আবদার; বাড়িকে কেন্দ্র করে এভাবেই বেড়ে উঠত একেকটা যৌথ পরিবারের গল্প। কিন্তু এখন তো আর সেই যুগ নেই, তাই যাদের বাসাবাড়ির আয়তন ৮০০ থেকে ১০০০ স্কয়ার ফিটের মতো তারা চিরাচরিত অন্দরসজ্জার ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের বাড়িটিতে আনতে পারেন বৈচিত্র্য। জমকালো, ভারি আসবাব ঘরের পরিবেশকে ছোট করে ফেলে। সে ক্ষেত্রে ঘরের দেয়ালজুড়ে বানিয়ে নিতে পারেন দেয়ালজোড়া আসবাব। প্রবেশপথ ঘরের প্রবেশপথের দেয়ালটুকু রাঙিয়ে নিন পছন্দমতো রঙের শ্যাডে। দেড় ফিট বাই চার ফিট প্রস্থ এবং সুবিধাজনক উচ্চতা অনুযায়ী কাঠ দিয়ে বানিয়ে নিন ডিভান। নিচের অংশটুকুকে ব্যবহার করুন জুতার তাক হিসেবে। উপরের দিকে দেয়ালে বসিয়ে দিতে পারেন লেকার পলিশ করা কাঠের ওপর টেরাকোটার কাজ করা আয়না। প্রবেশপথের কোনায় রাখতে পারেন কৃত্রিম পাথরের ঝরনা। কৃত্রিম ঝরনার মধ্যে নকশা অনুযায়ী আলোর ব্যবস্থা করুন। ছবি দীপঙ্কর দীপু