ইন্টারনেটের প্রসারের সাথে সাথে পর্নোগ্রাফিও ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত গতিতে। আর এসব পর্নোগ্রাফির মধ্যে বড় একটি অংশের সাথেই সম্পৃক্ত করা হয়ে থাকে শিশুদের। ইন্টারনেট জুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে শিশুদের নিয়ে তৈরি করা পর্নোগ্রাফির ছবি এবং ভিডিও। তবে এবারে শিশু পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে অনলাইন জায়ান্ট গুগল। ওয়েব থেকে পরিপূর্ণভাবে শিশু পর্নোগ্রাফির বিভিন্ন ধরনের উপাদান মুছে ফেলার ঘোষণা দিয়েছে তারা। সম্প্রতি এক ব্লগপোস্টে গুগল এই কথা জানায়। গুগল’র অফিসিয়াল ব্লগে এই ব্লগপোস্টে গুগল জানিয়েছে, ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (এনসিএমইসি)-এর তথ্য অনুযায়ী ইন্টারনেটে শিশু পর্নোগ্রাফির সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৭.৩ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৭৩ লক্ষ ছবি এবং ভিডিও পাওয়া গেছে ২০১১ সালে, যা ২০০৭ সালের তুলনায় পরিমাণে ৪ গুণের চেয়েও বেশি। শুধু তাই নয়, এই পরিমাণ দিন দিন বাড়ছেই। সারা বিশ্বের জন্যই এটি বড় একটি সমস্যা অভিহিত করে অনলাইন থেকে এই সংক্রান্ত সব ধরনের কনটেন্ট দূর করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে গুগল। এর জন্য গুগল প্রথমেই শিশুদের নিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফির সব ধরনের ছবি এবং ভিডিও’র একটি ডাটাবেজ তৈরি করবে। এই ডাটাবেজটি অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে শেয়ার করা হবে। তারাও এই ডাটাবেজে নিজেদের খুঁজে পাওয়া অন্যান্য ছবি, ভিডিও বা যেকোনো ধরনের কনটেন্ট যোগ করতে পারবে। এরপর এই কনটেন্টগুলো সরিয়ে ফেলা হবে ইন্টারনেট থেকে। ‘হ্যাশিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কনটেন্টের প্রতিটির জন্য তৈরি করা হবে অনন্য একটি সনাক্তকরণ কোড। এই কোডটি আবার বুঝতে পারবে কম্পিউটার। ফলে এই কনটেন্টগুলোর কোনো কপি কম্পিউটার খুঁজে পেলে সেটা ব্লক করে রিপোর্ট করা হবে। কম্পিউটার নিজেই এই কোডগুলো বুঝতে পারার ফলে এসব কনটেন্ট কোনো মানুষকে আর দেখতে হবে না, কম্পিউটার নিজেই সনাক্ত করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এ ছাড়াও এনক্রিপ্টেড ‘ফিংগারপ্রিন্ট’ প্রযুক্তির ব্যবহারে এটি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে বলে জানায় গুগল। এ সংক্রান্ত কাজের জন্য ২ মিলিয়ন ডলারের একটি বাজেটও বরাদ্দ করেছে গুগল। এর ফলে এই কাজের জন্য অন্যান্য প্রযুক্তির উদ্ভাবন বা সংশ্লিষ্ট কাজগুলো আরও দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছে গুগল। উল্লেখ্য, গুগল ২০০৬ সাল থেকেই শিশু পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে।
