স্বামী একটি গৃহপালিত প্রাণী!

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ১৮:১৭

রুবেল কান্তি নাথ

 

‘বহুতদিন পর তোমারে সুযোগমতো পাইছি চান্দু। আইজ যদি শপিংয়ে নিয়া না যাও, তোমার কপালে সুনামি আছে কইলাম।’ আগুনরঙা চোখে বললেন ভাবি।

ভাবির এহেন কথা শুনে শরীর নিঃসৃত গরম পানিতে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলার মতো অবস্থা হলো মোতালেব ভাইয়ের।

কোনোমতে তোতলাতে তোতলাতে সাক্ষাত যমদূতের কাছ থেকে রেহাই পেতে চাইলেন ভাই, ‘আইজ না গেলে হয় না জানু? আমরা না হয় কালকে যাই।’

‘খামোশ! আবার কথা কয়!’

‘না মানে, ইয়ে...’

‘ইয়ের খেতা পুরি! আইজকাই শপিংয়ে নিয়া যাবা আমারে।’

অগত্যা কী আর করা। অনিচ্ছাসত্ত্বেও ভাবিকে সঙ্গে নিয়ে বেরোতে হলো শপিংয়ে।

মার্কেটে পা ফেলেই মহারানি এলাহি কাণ্ড শুরু করে দিলেন। এটা-ওটা কেনা যেন থামতেই চাইছিল না তাঁর।

প্রায় হাজার বিশেক টাকার শ্রাদ্ধ করে ক্ষান্ত দিলেন ভাবি।

ততক্ষণে ভাইয়ের অবস্থা, ‘ছেড়ে দে বউ পালিয়ে বাঁচি’!

অতঃপর তারা সুখে শান্তিতে বাড়ি ফিরলেন।

 

দুই.

‘শুনছ, আইজ তোমার শ্যালক-শ্যালিকারা বেড়াতে আসছে। জলদি বাজার থেইকা বড় বড় ইলিশ মাছ নিয়া আসো। আহা, কতদিন পর ভাইবোনরা আমাদের বাড়িতে পা রাখছে। ওদের একটু ভালো-মন্দ খাওয়াইতে হবে না!’ ভাবির কঠিন হুকুম জারি হলো অবলা ভাইটার প্রতি।

‘জো হুকুম, মহামান্য বেগম সাহেবা।’ মনে মনে একথা বলে ভাই রওনা হয়ে গেলেন বাজার অভিমুখে।

বাজারে গিয়ে ইলিশ মাছের দাম শুনতেই ভাইয়ের হার্টফেল করার সমস্ত বন্দোবস্ত হয়েই গেল প্রায়! দু জোড়া ইলিশের দামে তো চাইলে আস্ত একটা খাসিই কিনতে পারবেন বলে মনে হচ্ছিল ভাইয়ের।

যাই হোক, ইলিশ মাছ কিনেই তাকে বাড়ি ফিরতে হবে। নইলে চিরদিনের জন্য হয়তো ভাবি সাহেবা তাকেই খোঁজা করে খাসি বানিয়ে দিতে পারেন!

এই ভয়ে ইচ্ছা না থাকলেও দু জোড়া বড় সাইজের ইলিশ কিনলেন তিনি। আরো কিছু জিনিসপত্র কিনলেন।

বাড়িতে ফিরে তবুও ভাবির ঝামটা খেলেন, কেন ভাই এরচেয়ে আরো বড় মাছ কিনেননি। তাকে যতই বোঝাতে চাইলেন যে, বাজারে এরচেয়ে বড় ইলিশ নেই, তবুও ভাবি রাগে গজগজ করতে লাগলেন।

দুপুরে শালাশালি খালি হাতে বেড়াতে এল। তাদের জন্য ডুবো তেলে মচমচে ইলিশ মাছ ভাজা হয়েছে। ভাই ভাবলেন, এই সুযোগে তিনিও ভাজা ইলিশের অপূর্ব স্বাদ নিতে পারবেন। কিন্তু ওই ইলিশ ইবলিশরাই চেটেপুটে শেষ করে দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ভাইয়ের ভাগ্যে জুটেছে মাছের মাথা। তা দেখে রাগে ক্ষোভে ভাইয়ের নিজের মাথা কুটাই সার হলো শুধু।

 

তিন.

প্রায় কাঁদো কাঁদো স্বরে ভাই ভাবিকে বললেন, ‘ওগো শুনছ, আমার হলুদ শার্টটার হাতার জায়গাটায় ছিঁড়ে গেছে। আমি কি আরেকটা শার্ট কিনতে পারি?’

‘তোমার এত শার্ট থাকতে হলুদ শার্টটা নিয়া এত প্যানপ্যান করতাছ ক্যান!’

‘না, ইয়ে মানে, ওইটা আমার খুব পছন্দের শার্ট তো তাই। ওইরকম আরেকটা যদি নিতে পারতাম।’

‘বুঝছি, তোমারে হিমু রোগে পাইছে। আইজ তোমারে এমন ডলা দিমু, হিমু রোগ বাপ বাপ কইরা পালাইব।’

‘ওরে মা’রে, মইরা গেলামরে! বউ আমারে মাইরা ফালাইলরে!’ বলে চেঁচিয়ে উঠতে চাইলেও ভাই নিজেকে সংযত রাখলেন।

বুঝতেই পারছেন, গৃহপালিত স্বামীদের এভাবে চেঁচানো শোভা পায় না। যদি সামনে দণ্ডায়মান থাকে স্বয়ং ঘরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মানে স্ত্রী সাহেবা আর কী!