জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ১৮:৩৬
বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা। শুধু বন্ধু কেন? বিভাগের বা নিজ আবাসিক হলের বা ক্যাম্পাসের যে কাউকে পেলেই জমিয়ে আড্ডা দেন জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থীরা। দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি অপরকে জানা ও নিজের সুখ-দুঃখ অন্যের সাথে ভাগাভাগি করার, অকৃত্রিম বন্ধুত্ব তৈরি এবং সুন্দর ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য এ ক্যাম্পাসে অসংখ্য চত্বরে চলে জম্পেশ আড্ডা। জীবনের বিভিন্ন তিক্ত বা মধুর ঘটনা, স্মৃতি, প্রেম-ভালবাসা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি এবং পাঠ্যসংশ্লিষ্ট বিষয় হয় আড্ডার বিষয়বস্তু। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্ট সারাদিনই আড্ডাপ্রিয় শিক্ষার্থীদের আড্ডায় থাকে মুখর। অমর একুশে: সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার মধ্যস্থলে ১৯৯১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ৫২র ভাষা শহীদদের স্মরণে অমর একুশে ভাস্কর্যের উদ্বোধন করা হয়। মহান ভাষা আন্দোলনের অম্লান চেতনাকে ৩৪ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট কংক্রিটের শরীরে জীবন্ত রূপ দিয়েছেন ভাস্কর জাহানারা পারভীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আন্দোলন, সংগ্রাম ও শোভাযাত্রা উদ্বোধন করা হয় এখান থেকে। শিক্ষার্থীরা এর পাদদেশসহ উপরে উঠে আড্ডা দেয়। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ: ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট সংলগ্ন সেন্ট্রাল মাঠ। এখানে দিনের বেলা সাধারণত খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়। পড়ন্ত বিকেল থেকে শুরু করে রাত ১০টা পর্যন্ত আড্ডা চলে এখানে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে এটিই সবচেয়ে বড় আড্ডার পয়েন্ট। শহীদ মিনার: নতুন কলাভবনের সামনে অবস্থিত এই শহীদ মিনারটি দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনার। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা এর পাদদেশে বসে আড্ডা দেয়। রাতের তুলনায় দিনের বেলায়ই এখানে আড্ডা জমে বেশি। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার: বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এবং তার সামনে মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য সংশপ্তক। লাইব্রেরির ভেতরে হয় জ্ঞান আহরণ এবং পাশে চলে নিবিড় আড্ডা। ছায়ামঞ্চ: বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির পেছনে একটি বটগাছকে কেন্দ্র করে ছায়ামঞ্চটি গড়ে উঠেছে। সপ্তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে জায়গাটি ছায়মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বন্ধুদের জন্মদিনের কেককাটা বা অন্য কোন পার্টিকে কেন্দ্র করে এখানেও জমে উঠে আড্ডা। বটতলা: বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে জনশ্রুত নাম বটতলা। জাহাঙ্গীরনগর আর বটতলা একই সাথে যুক্ত। মওলানা ভাসানী হলের সামনে পুকুর পার হয়েই বটতলা। কয়েকটি বটগাছে ছেয়ে থাকা এই চত্বরটি ক্লান্ত পথিকের অবসন্ন দেহের আশ্রয়স্থল। এখানে রয়েছে অনেকগুলো খাবারের দোকান। যেখানে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। এগুলোতেই বসে আড্ডা। ক্যাফেটেরিয়া: অমর একুশে ও মুক্ত মঞ্চের সামনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াকে ঘিরে ক্যাফে চত্বরটি গড়ে উঠেছে। ঝাউ গাছে ঘিরে থাকা এই চত্বরটি বিকালে মুখরিত হয়ে ওঠে। সকাল আর দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও নেই রাতের খাবারের কোন ব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের দাবি রাতেও ক্যাফেটেরিয়া খোলা রাখা হলে এ স্থানটি আরো প্রাণ ফিরে পাবে। মহুয়া চত্বর: নতুন কলা ভবনের সামনে আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের উত্তর-পশ্চিম কোণে মহুয়া তলা। প্রয়াত নাট্যকার অধ্যাপক সেলিম আল দ্বীনের রোপণ করা মহুয়া গাছটি এখন ক্যাম্পাসের আকর্ষণীয় চত্বর। মহুয়া তলায় প্রতি বছর বৈশাখী উত্সবসহ নানা রকম উত্সব উদযাপন করা হয়। মুক্তমঞ্চ: ক্যাফেটেরিয়ার ঢাল বেয়ে নামলেই সামনে মুক্তমঞ্চ। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের কোল ঘেঁষে নির্মিত এই মঞ্চটিকে এশিয়ার একমাত্র মুক্তমঞ্চ বলা হয়। নাট্যকার সেলিম আলদ্বীনের প্রস্তাবনায় এটি নির্মাণ করা হয়। সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত জাবির সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড একেই ঘিরে আবর্তিত হয়। টারজান পয়েন্ট: মেহের চত্বরকে সরিয়ে বর্তমানে টারজান পয়েন্ট এ স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দিনের বেলা এবং সন্ধ্যায় এখানে শিক্ষার্থীরা আড্ডায় মিলিত হয়। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র:বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র সবসময় সাংস্কৃতিক কর্মীদের পদচারণায় মুখর থাকে। এখানে সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়, ধ্বনি, আনন্দন, জলসিঁড়ি, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার প্রভৃতি সংগঠনের অফিস রয়েছে।