জো ক স

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ১৮:২৬

সত্যজিত্ বিশ্বাস

আমি তো কাউকেই পাত্তা দেই না

মিঠু :আমার বাবা একজন ডাক্তার। আমি অসুখকে পাত্তা দেই না।

টিটু :আমার বাবা একজন উকিল, আমি আইনকে পাত্তা দেই না।

লিটু :ফুহ... আর আমি তো কাউকেই পাত্তা দেই না। 

মিঠু ও টিটু :কেন, কেন? তোর বাবা কি নেতা?

লিটু :আরে নাহ, বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে এলাম, আর দুদিন পরে তো আমি নিজেই ক্যাডার। 

 

প্যাথেটিক সম্পর্ক

ভদ্রলোক :ওয়েটার, সুপের বাটিতে এটা কী?

ওয়েটার (চামচ দিয়ে নেড়েচেড়ে) :স্যার, মনে তো হচ্ছে টিকটিকি।

ভদ্রলোক :কী বললে! সুপের মধ্যে টিকটিকি?

ওয়েটার :এত অবাক হওয়ার কী আছে? গরমটা কী পড়েছে দেখেছেন?

ভদ্রলোক :গরমের সাথে সুপের মধ্যে টিকটিকির কী সম্পর্ক?

ওয়েটার :প্যাথেটিক সম্পর্ক।

ভদ্রলোক :প্যাথেটিক সম্পর্ক মানে?  

ওয়েটার :গরমে টিকতে না পেরে মনে হয় গরম সুপে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে সুইসাইড করেছে। 

 

তো, সমস্যা কী!

স্বামী :নাহ্, আমি আর বাজারেই যাব না। প্রতিটা জিনিসের যা দাম!

স্ত্রী :তো, সমস্যা কী! দামাদামি করে কিনবে।

স্বামী :দামাদামি করতে দিলে তো? দামাদামি করলে ওরা গালাগালি শুরু করে দেয়।

স্ত্রী :তো, সমস্যা কী! দিচ্ছেই তো, কিছু নিচ্ছে তো আর না।

 

কী একটা অবস্থা!

ভাগ্নে :মামা, তুমি তাড়াতাড়ি আসো। বাবা, গরমে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে।

মামা :আমি তাড়াতাড়ি এসে কী করব? বরং তুই তাড়াতাড়ি একজন ডাক্তার নিয়ে আয় কোনো ফার্মেসি থেকে।

ভাগ্নে :তুমি জানো না, আমাদের বাসায় কোনো ডাক্তার আসে না? সে জন্যই তো তোমাকে ডাকছি।

মামা :বাসায় কোনো ডাক্তার আসে না কেন?

ভাগ্নে :আর বোলো না, আমরা বাসায় রাজহাঁস পালা শুরু করেছি তো, তা-ই।

মামা :রাজহাঁস পাললে ডাক্তার আসবে না কেন?  

ভাগ্নে :কেউ বাসায় এলে ওগুলো ‘কোয়াক’ ‘কোয়াক’ করে ডেকে ওঠে যে!

 

কোন সে প্রাণী?

মা ছেলেকে উদাহরণ দিয়ে দিয়ে গরুর রচনা পড়াচ্ছে।

মা :আচ্ছা বাবা সোনা বলো তো, কোন সে প্রাণী

—যে সবচেয়ে বেশি নিরীহ,

—যার চোখ দুটো সব সময় ছলছল করে,

—যে খুব কম ডাকাডাকি করে,

—যে তোমাকে জুতা, চিরুনি, দুধ, মাখন, ছানা, মিষ্টি সব দেয়?

ছেলে :বাবা।

 

ব্যক্তিত্ব আনতে ‘ব্যক্তিত্ব যাচাই কুইজ’ নিষিদ্ধ

(ব্যক্তিত্ব দেখাতে গিয়ে কত গ্রাহক যে তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য তুলে দিয়েছে ডেভেলপারদের হাতে। যার ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না ফেসবুকের।)

প্রথম বন্ধু :এতদিনে ব্যক্তিত্ব এসেছে ফেসবুকের।

দ্বিতীয় বন্ধু :কেমন করে?

প্রথম বন্ধু :‘ব্যক্তিত্ব যাচাই কুইজ’ নিষিদ্ধ করে।

 

এসএসসির রেজাল্ট ভালোর মন্ত্র

এসএসসির ফল প্রকাশের আগে আগে অভি গেল এক জ্যোতিষীর কাছে।

অভি :বাবা, আপনি বলেছিলেন, পরীক্ষার রেজাল্ট খুব ভালো হবে।

জ্যোতিষ বাবা :তো, কী হয়েছে? রেজাল্ট কি দিয়ে দিয়েছে?

অভি :না, তা না। তবে খুব তাড়াতাড়ি দিয়ে দেবে তো, তাই আবার কনফার্ম হতে হাত দেখাতে এলাম।

জ্যোতিষ বাবা (বিড়বিড় করে) :হুম, ভালোই করেছিস। আস্তানা পাল্টানোর সময় হয়ে এল।

অভি (বিড়বিড় করে) :কী বললেন বাবা?

জ্যোতিষ বাবা :পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো করার মন্ত্র পড়ে দিলাম, যাহ!

 

বেশি গরমের উেসর সন্ধানে

স্ত্রী :এবার গরমটা অনেক বেশি পড়েছে, তাই না?

স্বামী :হুম।

স্ত্রী :কেমন জানি, দম আটকে আসা গরম, তাই না?

স্বামী :হুম।

স্ত্রী :দিনের বেলায় রাস্তায় বের হবার তো কোনো উপায়ই নেই।

স্বামী :হুম।

স্ত্রী :শুধু কী দিনে, রাতেও এই গরমে বাসায় থাকার উপায় নেই।

স্বামী :হুম।

স্ত্রী :কী খালি তখন থেকে ‘হুম’ ‘হুম’ করেই যাচ্ছ...

স্বামী :না মানে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, কথা বলা থেকেও গরম ছড়ায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষ গড়ে দশ হাজার শব্দ বলে।

স্ত্রী :কী বললে তুমি? আমি বেশি কথা বলি? আমি গরম ছড়াই?

স্বামী :তোমার কথা বললাম কোন সময়? বেশিরভাগ মানুষের কথা বললাম।

স্ত্রী :গরমের দেখছ কী? আজ দেখবা গরম কাকে বলে, কত প্রকার ও কী কী? আজ তোমার একদিন কি আমার একদিন! 

 

তোরা আপডেট হইছিস,

আমরা আপডেট হই নাই?

পুলিশ ইন্সপেক্টর :কীরে বল, ইয়াবা কই?

ইয়াবা ব্যবসায়ী :বিশ্বাস করেন স্যার, আমার কাছে কিচ্ছু নাই। এই যে দেখেন জামার পকেট, এই যে প্যান্টের পকেট...

পুলিশ ইন্সপেক্টর :আরে বেটা, তোরা আপডেট হইছিস, আমরা আপডেট হই নাই? এক্ষুনি ক, নাইলে কিন্তু হাসপাতালে নিয়া যামু।

ইয়াবা ব্যবসায়ী :থানায় না নিয়া হাসপাতালে কেন স্যার? 

পুলিশ ইন্সপেক্টর :এক্সরে করাইলেই সব ফকফকা হইয়া যাইব। শেষবারের মতো জিগাইতাছি, ক কই রাখছস?

ইয়াবা ব্যবসায়ী :আমারে মাপ কইরা দেন স্যার। এই জীবনে আর এমন কাম করুম না।

 

আলুর হিমাগারে মিষ্টি

ভাগ্নে :আচ্ছা মামা, আলুর হিমাগারে মিষ্টি মজুত রাখার কারণ কী?

মামা :আলুকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য।   

 

কার সাথে?

প্রথম বন্ধু :জানিস, আমি কত চালাক?

দ্বিতীয় বন্ধু :কত চালাক?

প্রথম বন্ধু :এত চালাক যে, এ জীবনে কোনো মহিলাই আমাকে বোকা বানাতে পারেনি।

দ্বিতীয় বন্ধু :বলিস কী! তাহলে তোর বিয়ে হলো কার সাথে? 

 

এইচএসসি পরীক্ষা তো শেষ

মা :আমার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টাকা নিয়েছে কে?

ছেলে :আমি না মা।

মা :কী ব্যাপার, এ কয়টা দিন তো ভালোই ছিলে। এখন আবার মিথ্যা বলা শুরু করেছ? শুধু তাই না, না বলে টাকাও চুরি করা শুরু করে দিয়েছ?

ছেলে :ইয়ে মানে, এইচএসসি পরীক্ষা তো শেষ।

 

এত হতাশ হওয়ার তো কিছু নেই

জোকস লেখক :আমার জোকস কি কখনোই আপনার ফান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হতে পারে না?

সম্পাদক সাহেব :নিশ্চয়ই পারে।

জোকস লেখক (আশান্বিত হয়ে) :তাই? কবে?

সম্পাদক সাহেব :লিখে যান তো, এত হতাশ হচ্ছেন কেন?

জোকস লেখক :তারপরও, প্লিজ বলুন না, কবে?

সম্পাদক সাহেব :আমি তো আর অমর না, তাই না?

 

অ্যাডজাস্টের একটা ব্যাপার আছে না?

কর্মচারী :স্যার, রোজার মাসে কাজের সময়টা একটু এদিক ওদিক করে অ্যাডজাস্ট করে নিলে হয় না?

বস :সে কেমন?

কর্মচারী :সকালে দুই ঘণ্টা দেরিতে অফিস শুরু করে।

বস :তাহলে ইফতারির সময় অফিস করবেন?

কর্মচারী :তা কেন হবে? সকালে দুই ঘণ্টা পরে অফিস শুরু হলে, বিকালে দুই ঘণ্টা আগে অফিস শেষ হবে। অ্যাডজাস্টের একটা ব্যাপার আছে না?

আর কত পরিবর্তন আনব?

 

সিনেমা নায়ক :আমার কী হয়েছে ডাক্তার সাহেব?

ডাক্তার :দেখুন, একটা সময় আসে, যখন সবারই উচিত একঘেয়েমি জীবন থেকে একটু বেরিয়ে আসা। আপনার অসুখ শরীরে না, মনে। আপনার পরিবর্তন দরকার। ইচ্ছে করলে কোথাও হাওয়া বদলে যেতে পারেন। 

সিনেমা নায়ক :সিনেমা ছেড়ে স্টেজ শো করছি। কোনো দেশ থেকে নির্বাচনী প্রচারের জন্য ডাকলে তাও যাচ্ছি। আর কত পরিবর্তন আনব ডাক্তার সাহেব? 

শান্তিতে থাকার টিপস

প্রথম দোস্ত :কীরে, এই গরমে এত হাসিখুশি কেন? সংসারে খুব শান্তিতে আছিস মনে হচ্ছে?

দ্বিতীয় দোস্ত :তা বলতে পারিস। 

প্রথম দোস্ত :বলিস কী রে? এই গরমে বউকে নরম রাখার টিপসটা আমাকেও দে।

দ্বিতীয় দোস্ত :বৌকে বলেছি, গরমে বেশি কথা বললে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা বেশি। তারপর থেকেই বউ আমার একদম চুপ।

রাস্তায় একদিন, প্রতিদিন

 

প্যাসেঞ্জার :ঘণ্টাখানেক আগে নিউমার্কেট গেলাম ৩০ টাকা দিয়া, এখন ৪০ টাকার নিচে যাবা না মানে?

রিকশাওয়ালা :ঘণ্টাখানেক আগে কী এত গরম আছিল? 

প্যাসেঞ্জার :ফাইজলামি করো! ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়াও! তোমার গরম লাগে, আমার লাগে না? যেই দেখলা রোডে অ্যাক্সিডেন্টের কারণে বাস চলে না, ওমনি ১০ টাকা বাড়াইয়া দিলা?

রিকশাওয়ালা :কী কইলেন? বাস চলে না? তাইলে ৫০ টাকার নিচে যামু না।