আকাশে উড়ল গুগল’র ইন্টারনেট বেলুন

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৩, ২০:৫৩
সময়টা ইন্টারনেটের। বিশ্বব্যাপীই এখন ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেট। এক অদৃশ্য অন্তর্জালে এখন আবদ্ধ সারা দুনিয়ার মানুষ। এই ইন্টারনেট সংযোগে বাড়তি গতি লেগেছে মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য হয়ে ওঠায়। এতে করে সারা দুনিয়াতে এখন সব ধরনের মানুষের হাতে মুঠোতেই পৌঁছে গেছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট। তারহীন প্রযুক্তিই ইন্টারনেটের প্রসারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইন্টারনেটের সংযোগকে আরও নিরাপদ করতে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে নিরন্তর। এরকমই এক গবেষণার ফল হিসেবে এবারে টেক জায়ান্ট গুগল আকাশে উড়িয়েছে বিশেষ এক ধরনের বেলুন, যেই বেলুনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে পারবে বিভিন্ন ডিভাইস। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড থেকে উচ্চ চাপের ৩০টি বেলুন ছাড়া হয়েছে আকাশে। হিলিয়ামে ভরা এই বেলুনগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার যন্ত্রাংশ। এ সকল যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এই বেলুনগুলো থ্রিজি বা তৃতীয় প্রজন্মের ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সমমানের এবং গতির ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করতে পারবে। প্রাথমিকভাবে ৫০টি যন্ত্রে পরীক্ষামূলকভাবে এই ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে গুগল। তারা জানিয়েছে, এই বেলুন থেকে প্রাপ্ত ইন্টারনেটের সংযোগ প্রচলিত নেটওয়ার্কের ইন্টারনেট সংযোগের মতোই নির্ভরযোগ্য হবে। শুধু তাই নয়, এই বেলুন ইন্টারনেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে, ভবিষ্যতে ভূমির উপরিতলে থাকা নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এই বেলুনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা যাবে। যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তাই এই বেলুন হাজির হতে পারে সহায় হয়ে। প্রজেক্ট লুন যে প্রকল্পের আওতায় গুগল এই বেলুনগুলো উড়িয়েছে আকাশে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট লুন’। একদম প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রকল্প রয়েছে বলেই জানিয়েছে গুগল। ‘বেলুন-পাওয়ারড ইন্টারনেট ফর এভরিওয়ান’ স্লোগান নিয়ে তৈরি করা এই বেলুনগুলো উড়ে ভূমি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উপরে অর্থাত্, স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থান করবে। সাধারণ বিমানগুলো যত উপর দিয়ে যায়, তার চেয়েও বেশি উপরে থাকবে এটি। সাধারণ বিমানগুলো সাধারণত ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার উপর দিয়ে চলে। প্রতিটি বেলুনের ব্যাস ১৫ মিটার বা ৪৯.২ ফুট। হিলিয়াম গ্যাসে পূর্ণ এই বেলুনগুলোতে থাকছে বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এর মধ্যে রয়েছে রেডিও অ্যান্টেনা, ফ্লাইট কম্পিউটার, অলটিচিউড কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সোলার প্যানেল। একশ দিন গুগল জানিয়েছে, প্রতিটি বেলুন একশ দিন থাকবে আকাশে। আর এই সময়কালে সে তার চারপাশের ৪০ কিলোমিটার ব্যাসের এলাকা জুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করবে। তবে এই একশ দিনে এটি যে পরিমাণ মানুষকে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করতে পারবে, তার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কমই হবে। সারা বিশ্বে ইন্টারনেট এখন ছড়িয়ে পড়লেও বিপুল পরিমাণ মানুষ এখনও ইন্টারনেট সংযোগের আওতার বাইরে রয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগের খরচই তাদের ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার মূল কারণ। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশকে গুগল বেলুনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে সংযুক্ত করা যাবে বলেই আশা করছে গুগল। সবদিক থেকেই গুগল’র বেলুনগুলো প্রশংসিত হয়েছে বিশ্বজুড়ে। তবে এই প্রকল্পকে সঠিকভাবে পরিচালনা করাটা বেশ কষ্টের কাজ হবে বলেই ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সেই চ্যালেঞ্জকে উের যাওয়া কঠিন হবে না বলেই আশা করছে গুগল।