অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
কাতারে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ২০২৩ সালে এশিয়ান কাপ ফুটবল বাছাইয়ের খেলা এক সঙ্গে চলবে। বাংলাদেশ বাছাইয়ের প্রথম পর্বে একটি ম্যাচ খেলবে। লাওসের বিপক্ষে হোম এন্ড অ্যাওয়ে ম্যাচের তারিখ আগেই ঘোষণা করেছিল এএফসি। দুদিন আগে খেলার সময় এবং কোন স্টেডিয়ামে খেলা হবে সেটাও জানিয়ে দিয়েছে এএফসি। ৬ জুন লাওসের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা এবং ফিরতি ম্যাচ ঢাকায় ১১ জুন সন্ধ্যা ৭টায় খেলা শুরু হবে।
লাওসকে হারাতে পারলে বাংলাদেশ পরবর্তী রাউন্ডে উঠবে। সেখানে আরো চারটি দেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হবে। চারটি দেশের সঙ্গে ম্যাচ পেলে হোম এন্ড অ্যাওয়ের হিসাবে বাংলাদেশ পাবে ৮ ম্যাচ। বলা যায় তখন বছর জুড়ে এই ম্যাচগুলো হবে বিভিন্ন সময়ে। আর বাংলাদেশ যদি লাওসকে টপকে যেতে না পারে তাহলে আগামী কয়েক বছর ফিফা এবং এএফসির অধীনে দেশের মূল জাতীয় দলের কোনো খেলা থাকবে না। তাই বলা যায় লাওস ম্যাচ দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের জন্য কঠিন পরীক্ষা সামনে। লাওস ধাপ পার হতে পারলে দ্বিতীয় ধাপে যাবে। দ্বিতীয় ধাপ অতিক্রম করতে পারলে তৃতীয় ধাপে খেলার সুযোগ পাবে। এভাবেই কাতার বিশ্বকাপ এবং এএফসি কাপের বাছাই প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। এখন সব কিছু নির্ভর করছে লাওস ম্যাচের উপর।
বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়াও মনে করছেন এই ম্যাচটি দেশের ফুটবলকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া। শুক্রবার রাতে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে খেলা শেষে জাতীয় দল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বেশ আশার কথাই শুনিয়েছেন জামাল। বিশেষ করে স্ট্রাইকারদের নিয়ে তার মুখে প্রশংসার কথা শোনা গেল। লিগে বিদেশি স্ট্রাইকারদের ভিড়ে দেশিদের গোল পাওয়া কঠিন এমন গুঞ্জন হরহামেশাই। আড়ালে দেশিদের প্রতিবাদী কণ্ঠ। বিদেশিদের ভিড়ে নাকি লিগ ম্যাচে গোল পাওয়া যায় না। জামাল ভুঁইয়া বললেন, ‘আমাদের স্ট্রাইকার মতিন মিয়া এবং জীবন গোল পাচ্ছে। লিগ ম্যাচে গোল পেলে সেটা ওদের জন্য বাড়তি প্রেরণা। জাতীয় দলও এই সুবিধা পাবে। ক্লাব ফুটবলে স্ট্রাইকাররা গোল পেলে সেটা জাতীয় দলে টনিকের কাজ করে।’
জামালের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস। বলছিলেন, ‘আমরা লাওসকে আগেও হারিয়েছি। আমি মনে করি আমাদের জেতার চান্স ৭০ ভাগ।’
জামাল ভুঁইয়া বলছিলেন, ‘সবাই গোল চায়। গোল না পেলে মন খারাপ হয়। ফুটবল তো গোলেরই খেলা তাই না।’
অনেক দিন হয়ে গেল ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভুঁইয়া বাংলাদেশে খেলছেন। প্রথম যখন এসেছিলেন বাংলা বলতে পারতেন না আর এখন পুরোপুরি বাংলায় কথা বলেন। গোল না পেলে কি হয় তা নিয়ে উদাহরণ টানলেন ভুটানের কাছে সেই হারের ঘটনা। জামাল বললেন, ‘ওই ম্যাচটা আমি খেলছি না। যাই হোক লাওসকে অবশ্যই হারাতে হবে। তাহলে পরবর্তী রাউন্ডে আরো পাবো।’
