সাবধান! আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জালনোট তৈরির সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত শুক্রবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও চকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও তৈরির সরঞ্জামসহ তিনজনকে আটক করেছে। আটকেরা জানিয়েছে, তারা ঈদবাজারকে টার্গেট করে জালনোট বাজারে ছেড়েছে। চক্রটি ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের ক্রেতাদের কাছে বিপুল পরিমাণ জালনোট সরবরাহ করেছে। পুলিশ এ চক্রটির কাছ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানরত তাদের সিন্ডিকেট সদস্যদের তথ্য নিয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচর থেকে বিপুল পরিমাণ জালনোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ তিন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের গাড়ি চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম। গ্রেফতারকৃতদের নাম মো. জীবন ওরফে সবুজ, জামাল উদ্দিন ও বাবুল ওরফে বাবু। তাদের কাছ থেকে ৪৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জালনোট, একটি ল্যাপটপ, ২টি প্রিন্টার ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের ডিসি মো. মাসুদুর রহমান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার পূর্ব রসুলপুরের একটি বাড়ি থেকে সবুজ ও জামাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর চকবাজারের ইসলামবাগের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বাবুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ৩৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকার জালনোট ও নোট তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া জাল টাকা আগে উদ্ধারকৃত টাকার চেয়ে অনেক বেশি নিখুঁত উল্লেখ করে ডিসি মো. মাসুদুর রহমান আরো জানান, এই জাল টাকাতেও নিরাপত্তা সুতা স্থাপন করা হয়েছে। এসব নিরাপত্তা সুতা তারা কিভাবে যোগাড় করেছে সেই ব্যাপারে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাধারণ চোখে দেখে বোঝা খুবই কঠিন যে এটা জাল টাকা। তবে অরজিনাল টাকা কিছুটা খসখসে এবং জাল টাকা বেশি মসৃণ বলে তিনি জানান।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জাল টাকা তৈরির মূলহোতা বাবুল। সে নিজেই সরঞ্জামাদি কিনে পূর্ব রসুলপুরের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরি করতো। সে জাল টাকা তৈরির নানা ধরনের কাগজে বিভিন্ন রকমের জলছাপ এবং নকল নিরাপত্তা সুতা স্থাপন করাসহ সকল কাজে সিদ্ধহস্ত। তিনি আরো বলেন, প্রস্তুতকারীর এক লাখ জাল টাকা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। তারা পাইকারি বিক্রেতার কাছে ১ লাখ জাল টাকা ১৪-১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। পাইকারি বিক্রেতা ১ম খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ২০-২৫ হাজার টাকায়, ১ম খুচরা বিক্রেতা ২য় খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ৪০-৫০ হাজার টাকায় এবং ২য় খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে সেই জাল টাকা আসল এক লাখ টাকায় বিক্রয় করে।
এদিকে গত ৬ মে দুপুরে বান্দরবান শহরের হাফেজ ঘোনা এলাকা থেকে ১ হাজার টাকার দুটি জাল নোটসহ আমেনা বেগম নামে এক নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বান্দরবান সদর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, আমেনা বেগম জালনোট সরবরাহকারী চক্রের একজন সদস্য। ঈদ এলেই তাদের সিন্ডিকেট সারাদেশে সক্রিয় হয়ে ওঠে। গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, ঈদকে সামনে রেখে সারাদেশে কোটি কোটি টাকার জালনোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে জালনোট ব্যবসায়ীরা।
