বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যা, ক্যাম্পাসের বিস্তার ও ডিগ্রির দিক দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সর্ববৃহত্ বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত করে শিক্ষার্থীদের সেবা দিতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। তবে সকল সমস্যা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের যথাযথ সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ। কথা বলেছেন— বারেক কায়সার ও জিলফুল মুরাদ শানু
ইত্তেফাক: শিক্ষার্থীদের কাছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা সেশন জট। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আপনার পদক্ষেপ কী?
এখানে প্রায় দুই হাজার কলেজে ১২ লক্ষ শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়ন করে। তাই সবকিছু সমন্নয় করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু আমরা একে সমাধান করার জোর গুরুত্ব দিয়েছি। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই। সাতটি আঞ্চলিক ক্যাম্পাসে ভাগ করে সেগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে দেয়া হবে। তাছাড়া আমরা সম্মান প্রথম শেণীর ভর্তি পরীক্ষা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষা না করে আগেই গ্রহণ করব। সম্মান শ্রেণীর পরীক্ষার পর ফলাফলের অপেক্ষা না করে শর্ত সাপেক্ষে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তি নিব। তাছাড়া প্রশাসনিক কাজকেও আগের চেয়ে গতিশীল করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য আপনার পদক্ষেপ কী?
প্রশাসনকে গতিশীল করার জন্য আমরা ‘রেজিস্ট্রার খাতা’ চালু করেছি যাতে ফাইল মুভমেন্টের সকল তথ্যাদি থাকে। কলেজ পরিদর্শনের জন্য স্বতন্ত্র শাখা খোলা হয়েছে। সর্বসাধারণের জন্য তথ্য, পরামর্শ ও অভিযোগ সেল গঠন করেছি। তাছাড়া কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য গাজীপুর অফিসে নিয়মিত এমনকি হরতালের দিনেও অফিস করে।
ইত্তেফাক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য-প্রযুক্তিকে কিভাবে কাজে লাগাচ্ছেন?
আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের ওয়েব সাইটকে তথ্য সমৃদ্ধ করে হালনাগাদ করছি। সেখানে সকল কলেজের মৌলিক তথ্য থাকবে। আমরা কমপ্রেহেনসিভ অনলাইন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করছি। তাছাড়া ই-টেন্ডার, ই-লাইব্রেরি চালু করে তথ্য-প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে।
ইত্তেফাক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল প্রকাশে যাতে দেরি না হয় সে ব্যাপারে আপনাদের পরিকল্পনা কী?
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বলে আমরা ‘৩য় পরীক্ষক’ পদ্ধতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় পরীক্ষক থেকে প্রাপ্ত নম্বরের গড় করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ইত্তেফাক: নতুন কোনো কোর্স চালু করার পরিকল্পনা আছে কী?
হ্যাঁ, আমরা আপাতত নতুন একটি কোর্স চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছি। বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরে সকল বিভাগের জন্য একটি সাধারণ কোর্স চালু করার চিন্তা করছি। যা সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক থাকবে। তাছাড়া সকল কলেজে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) নামে একটি কোর্স চালু করার কথা ভাবছি।
ইত্তেফাক: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় করার ক্ষেত্রে আপনি কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় করা আমাদের লক্ষ্য। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরে কমপক্ষে দুটি জার্নাল/গবেষণাপত্র প্রকাশ করার চিন্তা করছি। এবারের বাজেটে সে জন্য বরাদ্দও রাখা আছে। আমরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছি। এর জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তাছাড়া গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ভবিষ্যতে এমফিল, পিএইচডিসহ বিভিন্ন ডিগ্রি প্রদানেরও পরিকল্পনা আছে।
ইত্তেফাক: বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস করার কোন পরিকল্পনা আছে কী?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এর আঞ্চলিক স্থায়ী ক্যাম্পাস থাকার কথা। কিন্তু তা নেই। আমরা আঞ্চলিকভাবে স্থায়ী ক্যাম্পাস করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ করে স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।
