প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে অপরের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। নিজেদের সফটওয়্যারগুলোকে অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইও করেছে। তবে এবারে এসে একত্রিত হয়ে যাচ্ছে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী—মাইক্রোসফট এবং ওরাকল। ক্লাউডনির্ভর প্ল্যাটফর্মে একে অপরের সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করে দিতে সম্প্রতি এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে এই দুই টেক জায়ান্ট। এই চুক্তির ফলে মাইক্রোসফটের সার্ভার হাইপার-ভি এবং উইন্ডোজ আজুরে প্ল্যাটফর্মে ওরাকল সফটওয়্যার ব্যবহার করা যাবে। উইন্ডোজ আজুরে প্ল্যাটফর্মে এখন থেকে মাইক্রোসফট ওরাকলের জাভা, ডাটাবেজ এবং ওয়েবলজিক সার্ভার ব্যবহার করতে দেবে। অন্যদিকে ওরাকলও আজুরে গ্রাহকদের লিনাক্স ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত করবে। অর্থাত্ বলতে গেলে মাইক্রোসফট তাদের এতদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী লিনাক্স সফটওয়্যারগুলোকেই ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে নিজেদের সফটওয়্যারের পাশাপাশি। তবে প্রকৃতপক্ষে তাদের ডাটাসেন্টারগুলোর ব্যবহার থেকে তারা যে পরিমাণ লাভবান হবে, সেদিকেই দৃষ্টি দিচ্ছে তারা। এর আগেও মাইক্রোসফট এবং ওরাকল একত্রে অনেক কাজই করেছে। তবে সেসব চুক্তি সকলের সামনে খুব একটা প্রকাশে আগ্রহী হয়নি তারা। মাইক্রোসফটের সিইও এই চুক্তি সম্পর্কে জানিয়েছেন, ‘ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের জগতে আমরা এতদিন যা করেছি, তা যথেষ্ট নয়। তাই এবারে আমরা নতুন উদ্যোগে একত্রে কাজ করব।’ এদিকে মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের এই চুক্তিকে ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে কাজ করা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ প্রসঙ্গে ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এফবিআর-এর বিশ্লেষক ড্যানিয়েল আইভস বলেন, ‘মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের এই চুক্তি এখনই প্রযুক্তি বিশ্বে কোনো প্রভাব হয়ত রাখবে না। তবে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের একত্রিত হওয়াটা নিশ্চয় প্রযুক্তি বিশ্বের সামনে বড় ধরনের একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্যদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়েই দাঁড়াবে।’ এই দুই প্রতিষ্ঠানের একত্রিত হওয়া নিজেদের অবস্থানকে আরও অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে বলেই ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
