বাংলা
মো. সুজাউদ দৌলা. সহকারি অধ্যাপক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কাঞ্চনমালা আর কাঁকনমালা
প্রশ্ন-১। রক্ষীরা রাখালকে প্রাসাদে ঢুকতে দিল না কেন?
উত্তর: যে কারণে ঢুকতে দিল না: রাখাল যখন ছোট ছিল, তখন রাজপুত্র তার বন্ধু ছিল। দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসত। কিন্তু রাজপুত্র রাজা হয়ে যাওয়ায় রাখাল বন্ধুর সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেল। বন্ধুকে না দেখতে পেয়ে রাখালের মনে অনেক কষ্ট হতে লাগল। অবশেষে একদিন রাখাল নগরে চলে আসে। কিন্তু সামান্য রাখাল হওয়ায় প্রাসাদের রক্ষীরা তাকে রাজ দরবারে ঢুকতে দিল না। তারা তো জানত না যে, এই রাখাল তাদের রাজার বাল্যবন্ধু ছিল।
প্রশ্ন-২। কাঁকনমালা কে? কেন তার এমন নাম?
উত্তর: কাঁকনমালা পরিচয়: রানি যে দাসীকে নদীর ঘাটে গিয়ে কিনেছিলেন, সেই দাসীই কাঁকনমালা। নদীর ঘাটে দাসীকে রানি কেনার কারণ হলো- তখন রানির একজন দাসীর খুব প্রয়োজন ছিল। মূলত রাজার শরীরের সুচ খোলার জন্যই রানি কাঁকন দিয়ে দাসী কিনেছিলেন।
যে কারণে দাসীর নাম কাঁকনমালা: একদিন রানি নদীর ঘাটে গিয়েছিলেন, তখন রাজার সমস্ত শরীরে সুচবেঁধা ছিল। এমন সময় এক মেয়ে এসে রানিকে বলল যে সে রানির দাসী হতে চায়। আর রানির তখন দাসীর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু নদীর ঘাটে রানির কাছে টাকা ছিল না। তাই রানি হাতের কাঁকন দিয়ে মেয়েটাকে দাসী হিসেবে কিনেছিলেন। এ কারণেই দাসীটির নাম হলো কাঁকনমালা।
প্রশ্ন-৩। কাঁকনমালা কাঞ্চনমালার সাথে কেমন আচরণ করে? কেন করে?
উত্তর: ভূমিকা: কাঁকনমালা কাঞ্চনমালার সাথে দাসীর মতো আচরণ করে। কারণ কাঁকনমালা অন্যায়ভাবে রানি হয়েছে।
যেমন আচরণ করে: কাঞ্চনমালার সাথে কাঁকনমালা খুব খারাপ আচরণ করে। সামান্য কারণেই খুব কঠিন কথা বলে। রানিকে আরো বেশি ভয় দেখানোর জন্য মন্ত্রীকে ভয় দেখায়। সেনাপতির মাথা কাটার জন্য জলদিকে হুকুম দেয়। এক কথায় কাঁকনমালা কাঞ্চনমালার সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করে।
যে কারণে করে: কাঞ্চনমালার সাথে কাঁকনমালা খারাপ ব্যবহার করার কারণ হলো- নিজের পরিচয় গোপন রাখা। মূলত কাঁকনমালা হলো দাসী আর কাঞ্চনমালা হলো রানি। পোশাক বদল করে অন্যায়ভাবে কাঁকনমালা রানির বেশ ধারণ করেছে। এই মিথ্যা বেশকে টিকিয়ে রাখতেই কাঁকনমালা কাঞ্চনমালার সাথে খারাপ আচরণ করেছে।
মন্তব্য: কাঁকনমালা হলো মিথ্যা রানি। এ মিথ্যাকে গোপন রাখতেই সে কাঞ্চনমালার সাথে খারাপ আচরণ করে।
