মো.আতিকুল ইসলাম (জাহিদ)
সহকারি শিক্ষক
রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, রাজশাহী
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ ও প্রশাসন ব্যবস্থা
ওয়াজেদ সাজেব ওয়াসিফকে জবরদস্তিমূলক শ্রমে বাধ্য করে। মিসেস নাইমা ওয়াসিফের অধিকার সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কেননা অধিকারটি সাংবিধানিক নিশ্চয়তা আছে।
ক) ভারতের আইনসভা কয় কক্ষ বিশিষ্ট? ১
খ) জেলা পরিষদের গঠন লিখ। ২
গ) মিসেস নাঈমা সরকারের কোন বিভাগের সদস্য? ব্যাখ্যা করো। ৩
ঘ) উক্ত বিভাগের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করো। ৪
ক) উত্তর: ভারতের আইনসভা দুই কক্ষ বিশিষ্ট।
খ) উত্তর: জেলা পরিষদ বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। বাংলাদেশে সরকার ৬ ই জুলাই ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন, ২০০০ প্রবর্তন করে।
আইনের বিধান অনুসারে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা, বান্দরবান পার্বত্য জেলাসমূহ ব্যতীত অন্য জেলায় জেলা পরিষদ গঠনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একজন চেয়ারম্যান, পনের জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন মহিলা সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত। একটি নবগঠিত জেলা পরিষদের মেয়াদ বা কার্যকাল থাকবে পাঁচ বছর।
গ) উত্তর: উদ্দীপকে মিসেস নাঈমা সরকারের বিচার বিভাগের সদস্য। সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে অন্যতম হলো বিচার বিভাগ। সরকারের যে বিভাগ আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকে তাকে বিচার বিভাগ বলে। রাষ্ট্রের সকল আদালত এবং বিচারক নিয়ে বিচার বিভাগ গঠিত।
উদ্দীপকের ওয়াসিফ শিশু শ্রমে নিযুক্ত। মিসেস নাঈমা তার অধিকার সংরক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। আর বিচার বিভাগ-ই জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ জনগণের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে আইনের অনুশাসনকে অক্ষুন্ন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সজীব রাখে।
জনগণের মৌলিক অধিকার যা মূলত সংবিধানে লিপিবদ্ধ থাকে তা সংরক্ষণের দায়িত্ব আদালতের উপরই ন্যস্ত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং স্বাতন্ত্র বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সুসংগঠিত এবং সুপরিচালিত। সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হিসেবে এর ক্ষমতা, কার্য পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যাক্তি এবং আইন অমান্যকারীর বিচার করা বিচার বিভাগের প্রধান কাজ। এছাড়া সাধারণত আইনের ব্যাখ্যা প্রদান ও প্রয়োগের দায়িত্ব বিচার বিভাগের উপর ন্যাস্ত হয়। এই বিভাগের অন্তর্ভূক্ত হয়েই মিসেস নাইমা ওয়াসিফের সংরক্ষণে সচেষ্ট হয়েছেন। সুতরাং মিসেস নাইমা বিচার বিভাগের অন্তর্ভূক্ত।
ঘ) উত্তর: উদ্দীপকের উল্লেখিত বিষয়টি হলো বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত। বিচার বিভাগ ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দক্ষ শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলে। আইন ভঙ্গকারীকে শাস্তি প্রদান, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, নাগরিকের ব্যাক্তি স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার রক্ষা বহুলাংশে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। তাই বিচার ব্যবস্থা একটি দেশের ন্যায় বিচারের মানদণ্ড।
রাষ্ট্রীয় সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে বিচার বিভাগ কাজ করে। বিচার বিভাগ সংবিধানের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সমস্যা বা বিরোধের মীমাংসা করার ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শাসন বিভাগের অনুরোধে বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে থাকে।
বিচার বিভাগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নাগরিকদের স্বাধীনতা রক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে। নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার রক্ষা করার মাধ্যমে এ বিভাগ ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এ অধিকার সংরক্ষণ করতে গিয়ে বিচার বিভাগকে কিছু বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। এ পদ্ধতিগুলো হচ্ছে হেবিয়াস কর্পাস রীট, ম্যানডেমাস রীট, কো ওয়ারেন্টো রীট ইত্যাদি। এ হুকুমনামাগুলো জারি করার ক্ষমতা বিচার বিভাগের রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে অধিকার বঞ্চিত যে কোনো ব্যক্তির আবেদনক্রমে বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি বা কর্তৃপক্ষকে বিচারের জন্য আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দিতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যা জনমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। উদ্দীপকের নাইমার কাজটিও বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
সুতরাং সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে বিচার বিভাগের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
