স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিংদের সেই দুনিয়া কাঁপানো পারফরম্যান্স তো অনেক আগেই অস্ট্রেলিয়া হারিয়ে ফেলেছে। ইদানীং মাঠের বাইরের গণ্ডা গণ্ডা বিতর্ক, নিয়ন্ত্রণহীনতা মিলিয়ে দলটার একটা ছন্নছাড়া চেহারাও তৈরি হয়েছে। যার ফল হিসেবেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একেবারে অ্যাশেজের কদিন আগেই বরখাস্ত করে দিয়েছেন প্রধান কোচ মিকি আর্থারকে। উদ্দেশ্য একটাই, এই ছন্নছাড়া ভাবটা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলকে অ্যাশেজের আগেই গুছিয়ে ফেলা।
ড্যারেন লেহম্যান বলছেন, অবশ্যই অ্যাশেজের আগে দলকে গুছিয়ে ফেলে একটা ছন্দে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সেজন্য একটাই করণীয় আছে, দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক বাড়িয়ে ক্রিকেটটা তাদের কাছে উপভোগ্য করে তোলা। আর ক্রিকেট তখনই উপভোগ্য হবে, যখন মাঠে জয় আসতে থাকবে।
ড্যারেন লেহম্যান এই কথাগুলো কিন্তু সাবেক টেস্ট ওপেনার হিসেবে বলছেন না, বলছেন অস্ট্রেলিয়া দলের নতুন কোচ হিসেবে। হ্যাঁ, অনুমিতভাবেই মিকি আর্থারকে সরিয়ে দেয়ার একদিনের মাথায়ই অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের কোচ ও অস্ট্রেলিয়ার ভুবনজয়ী দলের ওপেনার লেহম্যানকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আজ থেকেই লেহম্যানের পরীক্ষা কার্যত শুরু হয়ে যাচ্ছে। তার অধীনে অস্ট্রেলিয়া দল অ্যাশেজের প্রস্তুতি হিসেবে আজ থেকে টন্টনে সমারসেটের বিপক্ষে শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ানদের চারদিনের ম্যাচ। এরপর উস্টারশায়ারের বিপক্ষে জুলাইয়ের ২ তারিখ থেকে আরেকটি চারদিনের ম্যাচের পর ১০ জুলাই থেকে ট্রেন্টব্রিজে শুরু হবে অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট।
একেবারে শিয়রে এই অ্যাশেজ রেখে এর আগে গত সোমবার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আকস্মিক এক সিদ্ধান্তে বরখাস্ত করে দেয় দলটির প্রধান কোচ মিকি আর্থারকে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড এবং টিম-পারফরম্যান্সের মহাব্যবস্থাপক প্যাট হাওয়ার্ড ব্রিস্টলে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই ঘোষণা দেন।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তে খুবই হতাশ মিকি আর্থার। তিনি বলছেন, বরখাস্ত হওয়ায় তার দুঃখ নেই, কিন্তু দলটা গুছিয়ে তোলার আগেই চলে যেতে হওয়ায় কষ্ট পেয়েছেন, ‘কোচকে সব সময়ই এরকম অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। কিন্তু দলটা যখন গুছিয়ে আনছি, ঠিক সেই সময় এভাবে আমাকে সরিয়ে দেয়ায় দুঃখ পেয়েছি।’
আর্থারকে সরিয়ে দেয়ার সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার নতুন কোচ হিসেবে সাবেক লেহম্যানের নাম ঘোষণা করা হয়। অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে সফর শেষ করে লেহম্যান এখন ইংল্যান্ডেই আছেন। ফলে তার পক্ষে দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নেয়াটা সহজ হয়েছে। দায়িত্ব বুঝে নেয়া সহজ হলেও এটা চালিয়ে যাওয়া যে কঠিনতম কাজ হবে, সে ব্যাপারে কারো সন্দেহ থাকার কথা নয়। কিন্তু টন্টনে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে লেহম্যান ব্যাপারটা খুব সহজ করেই দেখতে চাইলেন। তার কাছে আসলে এখন তার উত্তরসূরি এই খেলোয়াড়দের দরকার ক্রিকেটটা উপভোগ করা। সেজন্য মাঠে কয়েকটা জয়ই যথেষ্ট বলে মনে করছেন লেহম্যান, ‘আমি আশা করি সবাই শুরু থেকে ব্যাপারটা খুব উপভোগ করবে। ক্রিকেটটা উপভোগ করলেই সমস্যা মিটে যায়। সেজন্য দরকার মাঠে কিছু জয়। সেটাই হবে। আমি বুঝি আমাদের এখন একটা দিকেই এগোতে হবে—দিকটা সামনের দিক।’
লেহম্যানের জীবনদর্শন আসলেই বেশ সরল। তিনি অন্তত তার ক্রিকেটারদের এটা বোঝাতে চান যে, ক্রিকেট বা জয়-পরাজয়ই শেষ কথা নয়, জীবন এরচেয়ে অনেক বড় কিছু, ‘আমি ওদের বলতে চাই, ক্রিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কিন্তু জীবনের তুলনায় এটা খুব ছোট্ট একটা ব্যাপার। তাই পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুত্ব, ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলা, পরিবারকে সময় দেয়া এবং সফরে পরস্পরের পরিবারের বিকল্প হয়ে উঠাটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।’
এই দর্শন আসলেই একটা দল, একঝাঁক মানুষকে বদলে দিতে পারে। আর সেটা করতে পারলে নিজেদের সোনালী যুগটা হয়তো ফিরিয়েও আনতে পারেন লেহম্যান।
