হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, কওমী মাদরাসাগুলো আছে বলেই এখনও বাংলাদেশে মুসলমানিত্ব আছে। মুসলমানদের লক্ষ লক্ষ সন্তান এসব প্রতিষ্ঠানে লেখা-পড়া করে দেশ-বিদেশ ইসলামের প্রচার-প্রসারে ছড়িয়ে পড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় আয়োজিত হেফাজতে ইসলামের জরুরি সভায় তিনি এ কথা বলেন। কওমী মাদরাসাগুলোকে চাঁদা না দেয়ার ব্যাপারে সরকারের কতিপয় মন্ত্রী ও ধর্মবিদ্বেষী রাজনীতিক প্রচারণা চালাচ্ছে অভিযোগ করে আল্লামা শফী বলেন, সরকারের আর্থিক সহায়তা ছাড়া শুধুমাত্র ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সহযোগিতায় যুগ যুগ ধরে সমাজে শিক্ষার আলো বিস্তার ও আদর্শ নাগরিক তৈরিতে কওমী মাদরাসাগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয়, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর নেতাদের অংশগ্রহণে সভায় নাস্তিক্যবাদবিরোধী চলমান গণআন্দোলনে হেফাজতে ইসলামের তত্পরতা, ৫ মে ঢাকা অবরোধ ও শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান, হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরীসহ আহত নেতাকর্মীদের সুচিকিত্সা, সারা দেশে নেতাকর্মীদের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও ভবিষ্যত্ কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দারুল উলুম হাটহাজারী মিলনায়তনে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র নায়েবে আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর আল্লামা আবদুল মালেক হালিম, আল্লামা হাফেজ শামসুল আলম, আল্লামা মুহাম্মদ ইদরিস, আল্লামা সালাহুদ্দিন নানুপুরী, মুফতি জসিমুদ্দিন, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা ইলিয়াস উসমানী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ আজাদীবাজার, মাওলানা আনাস মাদানী, মাওলানা মুফতি হারুন ইজহার প্রমুখ।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রমকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া এবং ১৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গণজাগরণ সৃষ্টি করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পবিত্র মাহে রমজানের পর জ্বিলকদ মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন আয়োজন, প্রতিটি জেলা-উপজেলা, গ্রামে-গঞ্জে আলোচনা-সভা, সেমিনার ও দোয়া মাহফিল, যেসব মহানগর ও জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠিত হয়নি, সেখানে কমিটি গঠন করা ইত্যাদি।
