মুসলিম আহমেদ রবিন
প্রধান ফ্যাশন ডিজাইনার ও স্বত্বাধিকারী,
মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভ
স্বপ্নটা ছোটবেলা থেকেই দেখতেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই চিন্তা করতেন নিজে কিছু করার। তবে সেই কাজটি হবে সবার পছন্দের এবং তাতে থাকবে সৃজনশীলতার ছোঁয়া। আর হ্যাঁ, তার স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান হবে বেশ কিছু মানুষের। তিনি বিশ্বাস করতেন—চেষ্টা, পরিশ্রম আর সততা থাকলে উন্নতি হবেই, সাফল্য আসবেই। নিজের স্বপ্ন ও সাফল্য সম্পর্কে এভাবেই বলছিলেন তারুণ্যের ব্র্যান্ড মুসলিম কালেকশনের নিত্যনতুন ডিজাইনের শার্টের নেপথ্যের মানুষ মুসলিম কালেকশন ও মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভের স্বত্বাধিকারী মুসলিম আহমেদ রবিন। মুসলিম কালেকশনের প্রধান এই ফ্যাশন ডিজাইনার সহজেই বোঝেন তারুণ্যের ফ্যাশন এবং স্টাইল। ফলে এখানকার পোশাক জনপ্রিয় হয়েছে উঠেছে তরুণদের মধ্যে। চেষ্টা, পরিশ্রম আর সততার মিশেলে তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি গড়েছেন সফল ক্যারিয়ার।
‘আমার ছোটবেলা কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। বাবাকে দেখেছি ব্যবসা করতে। তখনই মাথায় ব্যবসার চিন্তা আসে। চিন্তা ছিল সৃজনশীলতা প্রকাশ পায় এমন কিছু করব যাতে নিজের পাশাপাশি বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। সেই চিন্তারই বাস্তব প্রতিফলন মুসলিম কালেকশন’, বলছিলেন মুসলিম আহমেদ।
তখন তিনি সোহরাওয়ার্দী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিএ’র ছাত্র। বিএ পরীক্ষা দিয়েই ভারতে যান ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ওপর পড়াশোনা করতে। দেশে ফেরেন ১৯৯০ সালে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ তখন সারাদেশের তৈরি পোশাকের পাইকারি মার্কেট হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তখনই ভাবলেন, এখানে কিছু করলে আন্তর্জাতিক ফ্যাশনটাকে সারাদেশের তরুণদের মাঝে সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। যেই ভাবনা সেই কাজ। মাত্র ১২ জন কর্মী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় মুসলিম কালেকশন ও মুসলিম গার্মেন্টসের।
মুসলিম আহমেদ বলেন, ‘মুসলিম কালেকশনে বর্তমানে কাজ করছেন প্রায় ৭ শতাধিক দেশি-বিদেশি কর্মী। শুরুতে যে গার্মেন্টস ছিল ২ হাজার স্কয়ার ফিটের, এখন সেটা হয়েছে ৮ হাজার স্কয়ার ফিট।’ এ ছাড়া গতকাল ২৬ জুন থেকে বিশাল পরিসরে যাত্রা শুরু করেছে মুসলিম কালেকশন। কেরানীগঞ্জের জেলা পরিষদ মার্কেটে মুসলিম কালেকশন এক্সক্লুসিভ নামে উদ্বোধন করা হয়েছে এক হাজার স্কয়ার ফিট আয়তনের নতুন শো-রুম। মুসলিম আহমেদ বলেন, ‘এ শো-রুম চালু হওয়ায় কর্মসংস্থান হয়েছে আরও তিনশ মানুষের। এ শো-রুমে ক্রেতারা পাচ্ছেন শতভাগ প্রিমিয়ার কটন, গিজা কটন, পিওর কটন, মুসলিম স্পেশাল, ইজিপশিয়ান কটনসহ নানা ডিজাইনের আকর্ষণীয় সব পার্টি শার্ট।’ এসব শার্ট তরুণদের মাঝে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়াও ফেলেছে।
তিনি জানান, এ বছরে শতভাগ সুতি কাপড়ের শার্ট নিয়ে এসেছেন তারা। স্ট্রাইপ ও এক কালারের ফর্মাল ও অফিসিয়াল এসব শার্টে ফুটে উঠছে ব্যক্তিত্ব। শুধু সুতি কাপড়েই তৈরি করা হচ্ছে আকর্ষণীয় সব শার্ট।
মুসলিম আহমেদ জানান, শার্টের জন্য বোম্বে, চায়না, ইতালি, থাইল্যান্ডের বিভিন্ন কারখানা ঘুরে ভালোমানের ফেব্রিকস পছন্দ করা হয়। আর সেই ফেব্রিকস দিয়ে সুদক্ষ ও প্রশিক্ষিত দেশি-বিদেশি কর্মী দ্বারা নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে সেলাইয়ের পর সেসব শার্ট বিক্রি করা হয় ঢাকার কেরানীগঞ্জের জেলা পরিষদ মার্কেট ও মাহবুব আলম শপিং কমপ্লেক্সের পাইকারি শো-রুমে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছি, সে সব দেশের তরুণদের স্টাইল ও রুচি দেখেছি। যখন একটি শার্টের ডিজাইন করি, তখন তারুণ্যর চাহিদাকে মাথায় রাখি। এ ছাড়া চলমান ফ্যাশন, স্টাইল এবং বিশ্বের ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন করে থাকি।’
মুসলিম আহমেদ বলেন, ‘পেশা হিসেবে ফ্যাশন ডিজাইনিং বেশ চ্যালেঞ্জিং। একটা সময় ছিল যখন ফ্যাশন ডিজাইনিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার অবকাশ ছিল না। কিন্তু সময় পাল্টেছে। এখন অনেক তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে আসছেন। ভালো ক্যারিয়ার গড়ছেন। বর্তমান ফ্যাশন ট্রেন্ড অনেক বিস্তৃত। প্রতিযোগিতাও বেশি। যে কারণে নিজেকে প্রমাণ করার একমাত্র উপায় জেনেশুনে ভাল কাজের স্বাক্ষর রাখা। ফ্যাশনের বিভিন্ন মোটিভ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। বর্তমানে ঋতুভিত্তিক ফ্যাশন বেশ জনপ্রিয়। ঋতুর ধরন অনুযায়ী কাপড়, রঙ ও ডিজাইন নির্বাচন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ক্রেতাদের চাহিদার ওপর। সেই সঙ্গে বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সমসাময়িক ধারণা তো থাকতেই হবে।’
মুসলিম আহমেদ রবিন
ডাক নাম :রবিন
জন্ম তারিখ ও স্থান :২২ ফেব্রুয়ারি, নারায়ণগঞ্জ
মায়ের নাম :হাজী মাসুদা বেগম
বাবার নাম :আব্দুল আজিজ
প্রথম স্কুল :এম ডাব্লিউ উচ্চ বিদ্যালয়
প্রিয় মানুষ :মা
প্রিয় উক্তি :জন্ম হোক যথা তথা, কর্ম হোক ভালো
প্রিয় পোশাক :শার্ট ও প্যান্ট
অবসর কাটে যেভাবে :আড্ডা দিয়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :চেষ্টা, পরিশ্রম ও সততা
