গাংনীতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ধর্ষণ মামলার আসামি নিহত

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ২২:৩৫

গাংনীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ধর্ষণ ও গৃহবধূকে অ্যাসিড নিক্ষেপ মামলার আসামি ইয়াকুব আলী ওরফে কাজল (২৬) নিহত হয়েছে। নিহত কাজল গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নের গাঁড়াডোব গ্রামের জালাল উদ্দীন ওরফে হাবুর ছেলে। এ সময় পুলিশের ২ জন সদস্য আহত হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গাঁড়াডোব গ্রামের একটি বাঁশবাগানে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনায় কাজল নিহত হয়।

গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) সাজেদুল ইসলাম জানান, ‘বহু কু-কর্মের হোতা কাজল তার সঙ্গীদের নিয়ে এলাকায় অপরাধমূলক কাজ করে আসছিল। তাকে আটকের পর সঙ্গীদের কাছে অস্ত্র আছে এমন কথা   স্বীকার করে সে। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে তাকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের একটি দল গাঁড়াডোব গ্রামের একটি বাঁশবাগানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তার সঙ্গীরা গুলি ছুঁড়তে-ছুঁড়তে পালিয়ে যায়। এ সময় কাজলের বুকে গুলি লাগে। পুলিশের দু’কনস্টেবলও আহত হন। কাজলসহ আহত দু’পুলিশকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার এম কে রেজা কাজলকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় ওয়ান শাটারগান ও ২ রাউন্ড গুলি এবং ১টি রামদা উদ্ধার করা হয়।

গাংনী থানা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার বিকালে ধলা গ্রামের এক গৃহবধূ পুকুর থেকে গোসল করে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় কাজল তার ওপর অ্যাসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে গৃহবধূর পরিবার পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাজলকে ধলা গ্রাম থেকে আটক করে। ঐ গৃহবধূকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গাংনী থানার ওসি হরেন্দ্রনাথ সরকার (পিপিএম) জানান, ইয়াকুব আলী কাজল কয়েক মাস আগে গাঁড়াডোব পোড়াপাড়ার এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করে এ পর্যন্ত আত্মগোপনে ছিল। এরপর ধলা গ্রামের এক নারীকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে প্রত্যাখ্যাত হয়ে গত বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূকে সে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে। তার বিরুদ্ধে এর আগেরও একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে। অ্যাসিড নিক্ষেপ করার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। শনিবার সকালে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।